বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণা ইরানের সামরিক কৌশলে নতুন ধাপের সূচনা হতে পারে। এতদিন তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক ধাপে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছিল তেহরান।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 March 2026 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতে (Middle East Tensions) নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিল ইরান (Iran)। দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এখন থেকে ১ হাজার কেজি বা তার বেশি বিস্ফোরক বহন (Missile That Can Carry 1,000 Kg Explosives) করতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করা হবে। এই ঘোষণা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি (US-Israel Iran Conflict) উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। ইতিমধ্যেই দুবাইয়ের বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবন লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণা ইরানের সামরিক কৌশলে নতুন ধাপের সূচনা হতে পারে। এতদিন তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক ধাপে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছিল তেহরান। এখন তারা কম সংখ্যক কিন্তু বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কৌশল নিতে পারে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে যুদ্ধের অর্থনৈতিক হিসাবও বদলে দিতে চাইছে ইরান। কারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ অত্যন্ত বেশি। একটি প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে ইরানের অনেক ড্রোনের দাম তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্রমাগত সক্রিয় রাখতে প্রতিপক্ষের বিপুল ব্যয় হয়।
ওয়াশিংটনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে ইরানের হাতে। তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে দীর্ঘ পাল্লার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আরও বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র।
এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ইতিমধ্যেই বহু দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলির মধ্যে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে লক্ষ্যভেদ করতে পারে এবং মাঝপথে দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতাও রাখে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই ১ হাজার কেজি বা তার বেশি বিস্ফোরক বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়মিত ব্যবহার শুরু হয়, তবে প্রতিটি হামলার ধ্বংসক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যাবে। সেই কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপও বাড়বে।
ফলে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতে এখন নতুন এক সামরিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।