একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংকেতিক বার্তাটি এমনভাবে পাঠানো হয়েছিল যাতে নির্দিষ্ট সংকেত জানা ব্যক্তিরাই সেটি বুঝতে পারেন। আমেরিকার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই বার্তাটি বিদেশে আগে থেকেই থাকা 'স্লিপার সেলের' সদস্যদের সক্রিয় করার নির্দেশ হতে পারে।

আয়াতোল্লা খামেনেই
শেষ আপডেট: 10 March 2026 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত (Middle East Tensions) ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘর্ষের (US-Israel Iran Conflict) মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে একটি খবর। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ইরান সম্ভবত বিদেশে থাকা নেটওয়ার্ককে (স্লিপার সেল - Sleeper Cells) সক্রিয় করার উদ্দেশে একটি সাংকেতিক বার্তা পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটন সেই বার্তা 'ডিকোড' করার পরই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংকেতিক বার্তাটি এমনভাবে পাঠানো হয়েছিল যাতে নির্দিষ্ট সংকেত জানা ব্যক্তিরাই সেটি বুঝতে পারেন। আমেরিকার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই বার্তাটি বিদেশে আগে থেকেই থাকা 'স্লিপার সেলের' সদস্যদের সক্রিয় করার নির্দেশ হতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুর (Ayatolla Ali Khamenei Death) পরই এই সংকেত পাঠানো হয়েছিল। সেই বার্তায় নাকি গোপন কর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও বার্তার প্রকৃত বিষয়বস্তু এখনও পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনিক নথিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বার্তা সাধারণত ইন্টারনেট বা মোবাইল যোগাযোগের উপর নির্ভর না করেই পাঠানো হয়। বিশেষ সংকেতযুক্ত বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে তা সম্প্রচার করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট সংকেত জানা গোপন কর্মীরা নির্দেশ পেতে পারেন। এই কারণেই এমন বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।
আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, একটি সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে বারবার এই সংকেত পাঠানো হচ্ছিল এবং তা ইরানের বাইরে একাধিক দেশে পৌঁছাচ্ছিল। এর জেরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবু পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমেরিকার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে অস্বাভাবিক বেতার সংকেতের উপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে সন্ত্রাসবিরোধী নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরানকে ঘিরে চলা যুদ্ধের জেরে প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে আমেরিকার ভিতরেই হামলার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন প্রাক্তন নিরাপত্তা আধিকারিক।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার একাধিক বড় শহরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি ও নিউইয়র্কের প্রশাসন ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, উপাসনালয়, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে টহলদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।