Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

ধ্বংস নয়, ধৈর্যের খেলা! ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হারাতে ইরানের নয়া কৌশলে চাপ বাড়তে পারে বাকি দেশগুলিরও

 বহুদিন ধরেই প্রস্তুতি ছিল পরিকল্পিত মিসাইল-ড্রোন হামলার জন্য। মার্কিন বাহিনী (US Army) দাবি করছে যে ইরানের বিশাল অস্ত্রভান্ডারের বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে, তবে আঞ্চলিক সূত্র বলছে, এখনও অর্ধেকের বেশি মিসাইল মজুত থাকতে পারে।

ধ্বংস নয়, ধৈর্যের খেলা! ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হারাতে ইরানের নয়া কৌশলে চাপ বাড়তে পারে বাকি দেশগুলিরও

ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন সংঘাত (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 10 March 2026 10:26

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান (Iran) বুঝে গেছে যে সামরিক শক্তিতে তারা আমেরিকা (America) বা ইজরায়েলের (Israel) সমান নয়! তাই হয়তো তেহরানের (Tehran) নতুন কৌশল হল, যুদ্ধকে লম্বা টেনে নিয়ে ধৈর্য আর সহনশীলতার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। মিসাইল-ড্রোন হামলা, জ্বালানি রুট ব্যাহত করা, আর বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করে আমেরিকাকে ‘বিচলিত’ করাই ইরানের মূল লক্ষ্য।

মার্কিন-ইজরায়েলের তীব্র আঘাত (US Israel Strikes on Iran) ও সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) পর দেশের নিয়ন্ত্রণ এখন রয়েছে IRGC (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস)–এর হাতে। তারাই যুদ্ধ পরিচালনা, কৌশল ঠিক করা এবং লক্ষ্য বাছাইয়ের দায়িত্বে রয়েছে। এমনকি খামেনেইর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei) নতুন সুপ্রিম লিডার (Iran New Supreme Leader) নির্বাচনে সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা নিয়েছে এই বাহিনী।

লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকসের ফওয়াজ গারজেস বলেন, ইরানের কাছে এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই- প্রাণপণে লড়াই করছে তারা। বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভাটাঙ্কা মন্তব্য করেন, 'রক্তাক্ত হলেও তারা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে এখন বেশি বিপজ্জনক।'

উপসাগর জুড়ে হামলা, তেলের বাজারে অস্থিরতা

ইরান উপসাগরের বিভিন্ন দেশে, কাতার থেকে সৌদি আরব পর্যন্ত- জ্বালানি অবকাঠামোকে নিশানা করছে। লক্ষ্য পরিষ্কার:

  • তেলের দাম বাড়ানো
  • মার্কিন ও ইউরোপীয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি
  • আমেরিকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে নাড়া দেওয়া

ওদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ চলবে যতক্ষণ না ইরান পুরোপুরি 'পরাস্ত' হচ্ছে, তবে তিনি দাবি করেছেন যে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে। ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানের পর ইরানের হাতে আর কোনও কার্যকর অস্ত্র থাকবে না আমেরিকা, ইজরায়েল বা তাদের মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য।

ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও এখনকার বাস্তবতা

ইরানি সূত্র বলছে, এই সংঘাত আগেই অনুমান করা হয়েছিল। তাই বহুদিন ধরেই প্রস্তুতি ছিল পরিকল্পিত মিসাইল-ড্রোন হামলার জন্য। মার্কিন বাহিনী (US Army) দাবি করছে যে ইরানের বিশাল অস্ত্রভান্ডারের বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে, তবে আঞ্চলিক সূত্র বলছে, এখনও অর্ধেকের বেশি মিসাইল মজুত থাকতে পারে। এই অবস্থায় ইরান আরও কয়েক সপ্তাহ হামলা চালাতে সক্ষম।

IRGC এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্র নয়, রাষ্ট্রকেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনছে

বন্দর থেকে পণ্য সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, কাগজপত্র যাচাইয়ে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, 
যুদ্ধকালীন অর্থনীতির প্রস্তুতি চলছে। এতে বোঝা যায়, IRGC শুধু সামরিক নয়, প্রশাসনিকভাবেও প্রভাব বাড়াচ্ছে।

বোমাবর্ষণের মধ্যেও তেহরান এখনও সচল। দোকান-ব্যাঙ্ক খোলা, বহু মানুষ শহর ছাড়েনি। এমনকি সরকারবিরোধী অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও হামলা চলার পর জাতীয় ঐক্যের অনুভূতি বাড়ছে। অনেকের মতে, ইরান ভেঙে যাক- এটা কেউই চাইছে না।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই: কে আগে পিছু হটবে?

বিশ্লেষকদের মতে, এখন যুদ্ধের চরিত্র দাঁড়িয়েছে দুটি পরীক্ষায়- ইরান কতদিন মিসাইল ছুড়তে পারবে আর আমেরিকা-ইজরায়েল কতদিন অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক চাপ সহ্য করতে পারবে।

তেলের দাম বাড়ছে, বিশ্ববাজার অস্থির, আমেরিকায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইরান চায়, এই চাপই শেষমেশ আমেরিকাকে আলোচনায় ফিরে আসতে বাধ্য করুক। ইরানের কৌশল পরিষ্কার, বেঁচে থাকা মানেই জয়। আর এমন এক ক্ষতবিক্ষত ইরানও ভবিষ্যতে আরও অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।


```