'ইরানের নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। মিসাইলের শক্তিও ক্ষীণ। ড্রোন তৈরির ঘাঁটিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে।'

ট্রাম্পের নজরে হরমুজ প্রণালী!
শেষ আপডেট: 10 March 2026 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার ট্রাম্পের নজরে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait)। ইরান কোনও 'দুষ্টুমি' করে হরমুজ অচল করতে চায় তাহলে তা দখল করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের (US President Donald Trump)।
বিশ্বের মোট তেলের (Global Oil Market) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী হয়ে যায়। সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে ওই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইকে নতুন সুপ্রিম লিডার (Iran new Supreme Leader) হিসেবে নির্বাচিত করার পরপরই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছুঁয়েছিল, যা ছিল ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে কিছু সময় পরই দাম কমে যায়, মার্কিন শেয়ার বাজারও (US Stock Market) ঘুরে দাঁড়ায়। কারণ ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান 'স্বল্পমেয়াদি' হবে।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, 'ইরানের নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। মিসাইলের শক্তিও ক্ষীণ। ড্রোন তৈরির ঘাঁটিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে।' মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, 'ইরানের যা ছিল সব শেষ। তারা যেন আর কিছু 'কিউট' করার চেষ্টা না করে, নাহলে পুরো দেশটাই শেষ হয়ে যাবে।'
ইরানের হামলায় (Iran War) প্রণালী এলাকায় জাহাজে আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের (Oil Tanker) চলাচল প্রায় বন্ধ। ইরানের ড্রোন ও মিসাইল আঘাতে বড় তেল-গ্যাস উৎপাদক দেশগুলোর পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল–গ্যাস রফতানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যে ইরানের সঙ্গে খুব বেশিদিনের যুদ্ধ হবে না (Iran US War)। রিপাবলিকান নেতাদের সামনেই তিনি বলেছিলেন, 'কিছু খারাপ শক্তিকে ধ্বংস করতে আমরা আরবদুনিয়ার অল্প অংশেই অভিযান চালিয়েছি। এই যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না।' তবে এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্ক করে দেন, 'হরমুজ প্রণালী বন্ধ করলে ইরানকে আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি আঘাত করবে আমেরিকা। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই তার জবাবে তেহরানের হুঁশিয়ারি, "আমরা না চাইলে এই যুদ্ধ থামবে না।"
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'যুদ্ধের শেষ কখন হবে, তা আমরাই ঠিক করব। আরবদুনিয়ার (Middle East Tension) ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে।'