ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে সেই পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও তিনি বিবেচনা করছেন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 10 March 2026 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East Tensions) চলতে থাকা সংঘাতের দ্বিতীয় সপ্তাহে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠল হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) ঘিরে। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের (Strait of Hormuz Oil Supply) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সেই পথেই তেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান (US Iran Conflict)। তেহরানের স্পষ্ট বক্তব্য, হামলা অব্যাহত থাকলে প্রণালী থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন তেহরানকে। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান যদি বিশ্ববাজারে তেলের জোগান ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তবে তার ভয়াবহ ফল ভুগতে হবে। তাঁর দাবি, ইরান ইতিমধ্যে যা করার করেছে, এর পরে যদি আর কোনও উস্কানি দেওয়া হয় তবে সেই দেশের অস্তিত্বই বিপদের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খোলা রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে সেই পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও তিনি বিবেচনা করছেন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালী ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। আরব দুনিয়ার তেলবাহী জাহাজগুলির বড় অংশই এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে তেলের দামের উপরেও। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপিছু প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের বিদেশ মন্ত্রকও সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
এর আগেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি এই প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বাধা দেয়, তবে আমেরিকা আগের তুলনায় বহু গুণ বেশি শক্তি প্রয়োগ করে পাল্টা জবাব দেবে।
তবে মার্কিন সতর্কবার্তায় যে ইরান পিছু হটছে না, তা স্পষ্ট হয়েছে তাদের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে। ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, যদি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে অঞ্চল থেকে শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের উদ্দেশে এক ফোঁটা তেলও রফতানি করতে দেওয়া হবে না।
এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।