পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির খোদ ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করা এবং দুমাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার সদ্য মার্কিন সফরে গিয়ে ভারতকে পরমাণু বোমা মারার হুমকি দেওয়া ছাড়াও ফের সাফল্যের সুদ ঘরে তুলে নিয়ে এলেন।

বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাধীনতার পক্ষে ভারত।
শেষ আপডেট: 12 August 2025 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী অধিকাংশ কূটনৈতিক লড়াইয়ে ভারতের থেকে কয়েক কদম এগিয়ে থেকেছে পাকিস্তান। সৌজন্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকা ছাড়াও কমিউনিস্ট চিনও পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছে বহু ক্ষেত্রে। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির খোদ ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করা এবং দুমাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার সদ্য মার্কিন সফরে গিয়ে ভারতকে পরমাণু বোমা মারার হুমকি দেওয়া ছাড়াও ফের সাফল্যের সুদ ঘরে তুলে নিয়ে এলেন। আর তা হল, পাকিস্তান বিরোধী বালুচিস্তান-বিদ্রোহীদের বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের তকমা আদায় করা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রক সোমবার পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন বালুচিস্তান রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখা বিদ্রোহীদের বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের তকমা এঁটে দিয়েছে। বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি ও তার সহযোগী সংগঠন মজিদ ব্রিগেড সহ সব স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী এখন থেকে আমেরিকার চোখে বিদেশি জঙ্গি সংগঠন বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ আল কায়েদা, লস্কর-ই-তোইবা, জয়েশ-ই-মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিনের মতোই বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেডও এখন থেকে ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী।
বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাধীনতার পক্ষে ভারত। দেশভাগের পর থেকেই ভারত সরকার এই এলাকার মানুষের স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রয়েছে। তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে জ্বলুনি রয়েছে ইসলামাবাদের কর্তাদের। মানবিকতার স্বার্থে ভারতের সমর্থনের অবস্থানকে পাকিস্তান উসকানি ও মদতদাতা বলে গালমন্দ করে এসেছে নয়াদিল্লিকে। এমনকী সেদেশে কোনও হামলা হলেও ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে পাক সরকার ও তাদের চর সংস্থা আইএসআই।
মজিদ ব্রিগেডকে মার্কিন বিদেশমন্ত্রক স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট আখ্যা দিয়েছে। এর আগে বিএলএ-কেও এই তকমা দিয়েছিল আমেরিকা। পাকিস্তানে একের পর এক সরকার বিরোধী হামলার জবাবে স্বাধীনতাকামী সংগঠনকে দায়ী সাব্যস্ত করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে করাচি বিমানবন্দরে এবং গ্বদর বন্দর কর্তৃপক্ষ চত্বরে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করে বিএলএ। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কোয়েট্টা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন ছিনতাইয়েরও দায় নেয় এই গোষ্ঠী। যে ঘটনায় ৩১ জন সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। মার্কিন বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ এই সিদ্ধান্ত।
আমেরিকার এই দুমুখো নীতির প্রতিবাদ করে বালুচ স্বাধীনতাকামী সমাজকর্মী মির ইয়ার বালুচ বলেন, এই সিদ্ধান্ত সমগ্র বালুচিস্তানের প্রতি অপমান। বালুচরাই এই এলাকার অধিকারসম্মত উত্তরাধিকারী। দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে মদত দেওয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাকিস্তানি জঙ্গিরা আমেরিকার সেনাবাহিনীর উপর আক্রমণ করেছে। সেসব কথা মনে রাখেনি আমেরিকা, বলেন তিনি। তাঁর দাবি, বালুচরা জঙ্গি নয়। বালুচিস্তান হল একটি দেশ। যে দেশ ৭৮ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক শোষণ, পাকিস্তানের পরমাণু পরীক্ষার নামে তেজস্ক্রিয়তার বিষে তিলেতিলে মরছে, বিদেশি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত, পাকিস্তানের বকলমা সরকার ও উগ্রপন্থীদের নৃশংস দখলদারির ফলভোগ করছে।
তাঁর আরও অভিযোগ, বালুচিস্তান ও তার নাগরিকরা পাকিস্তানি মদতপ্রাপ্ত আইএস-খোরাসান জঙ্গি গোষ্ঠীর শিকার। এরা হল আইসিসের ছদ্মদল। যারা এখন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দল ও সমাজকর্মীদের নিকেশ করার ফতোয়া জারি করেছে। এদের সাহায্যে পাকিস্তান সরকার বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে আমেরিকার সাহায্য নিয়ে। অথচ বালুচরা কোনওদিন মার্কিন সেনাকে আক্রমণ করেনি। এরা সেই পাকিস্তান যারা আমেরিকা বিরোধী আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল। জঙ্গিদের পুরোদমে মদত দিয়েছিল।
সবশেষে তিনি বলেছেন, পাকিস্তান প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ব শান্তি, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসের দরজায় তারা এক বোঝা। এটা গণতন্ত্রের খোলসে সেনার উর্দি পরা রাষ্ট্র। পৃথক বালুচিস্তান রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি ও বিপন্ন বালুচ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাতর আর্জি জানান মির ইয়ার বালুচ।