ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল, পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা পর্ব মিটলেই নাকি ভারতের সঙ্গে কথা হবে। যদিও বিষয়টি এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 3 June 2025 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুব তাড়াতাড়ি আমেরিকায় (America) আসছে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল। তাঁদের সঙ্গে শুল্ক এবং বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বোঝা গেছিল, ইসলামাবাদের সঙ্গে সখ্যতা দৃঢ় করতে দু'বার ভাবছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ভারত (India)? তাঁদের শত্রুদেশের সঙ্গে ট্রাম্পের এই গলায়-গলায় ভাব কি নরেন্দ্র মোদী মেনে নেবেন? মার্কিন বাণিজ্যসচিবের (US Commerce Secretary) গলায় কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সুর ধরা পড়ল।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে অষ্টম ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম সামিট (USISPF Summit)। তাতে বক্তব্য রেখেছেন মার্কিন বাণিজ্যসচিব হোয়ার্ড লুটনিক (Howard Lutnick)। তিনি জানান, আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়া কোনও অদূর ভবিষ্যৎ নয়। আশা করা যায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সুখবর শোনাবে দুই দেশের সরকার। লুটনিকের কথায়, ''টেবিলের দুই দিকেই যখন উপযুক্ত ব্যক্তি থাকেন, তখন সবকিছুই সহজ হয়ে যায়। যে কোনও আলোচনাই ফলপ্রসূ হয়। আমরা আশা করছি, এক্ষেত্রেও তাই হবে।''
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ছিল, পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা পর্ব মিটলেই নাকি ভারতের সঙ্গে কথা হবে। যদিও বিষয়টি এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই প্রসঙ্গে, মার্কিন বাণিজ্যসচিবের বক্তব্য, দুই দেশই যাতে চুক্তির সুবিধা পায়, দুই দেশই যাতে উপকৃত হয়, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচনা হবে। আর এই আলোচনা পর্ব দ্রুত হতে চলেছে।
ভারত সহ বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন অঙ্কের শুল্ক চাপিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মত ছিল, এইভাবে একাধিক বন্ধু-দেশকে চটিয়ে ফেলছেন ট্রাম্প। পরবর্তী সময়ে অবশ্য শুল্ক ইস্যুতে নিজের যুক্তি খাঁড়া করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই নিয়ে মার্কিন বাণিজ্যসচিব লুটনিক বলছেন, ''ট্রাম্পের নীতি 'আমেরিকা প্রথম'। কিন্তু তার মানে এই নয়, বাকি বন্ধু দেশের ক্ষতি চান তিনি। আসলে আগে নিজের দেশ ভাল থাকুক, উন্নতি করুক, সেটা তাঁর অগ্রাধিকার। এরপরেই তিনি বন্ধুদেশগুলির কথা ভাবেন। ভারতের কী করে ভাল হবে, সেটাও ট্রাম্পের ভাবনার মধ্যে রয়েছে। তিনি ভারতকে খুবই সম্মান করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও।''
এই প্রসঙ্গে ভারতের বাজার এবং অর্থনীতির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন লুটনিক। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, ভারতবাসীর মধ্যে সবসময়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে যা তাঁদের দেশের অর্থনীতিকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে। তাই ভারতে যা করা যায়, অন্য কোনও দেশে তা করা যায় না। ভবিষ্যতে আমেরিকা-ভারত শুল্ক এবং বাণিজ্য চুক্তি বিশ্বকে যে দিশা দেখাবে, তা নিশ্চিত বলে মত লুটনিকের।
আপাতত লুটনিক মুখিয়ে রয়েছেন ভারত-আমেরিকা চুক্তির দিকেই। ভারতের অবস্থান নিয়ে তাঁর মত, ''যে দেশগুলি বাণিজ্য সমঝোতায় আসবে, তারা ভাল চুক্তিই পাবে। আশা করি ভারতও প্রথম দিকে আসা দেশগুলির মধ্যে থাকতে চাইছে।'' স্পষ্ট বলছেন, আগে এই ধরনের চুক্তি হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেত। এখন সেটাই কয়েক মাসের মধ্যে করার চেষ্টা হচ্ছে।