মামলার শুনানিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ১০ মে সংঘর্ষ বিরতির দৌত্য করারা যুক্তিও আদালতে ধোপে টেকেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 May 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত শুল্কনীতি নিয়ে নিজের দেশ আমেরিকার আদালতেই ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী এই মামলার শুনানিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ১০ মে সংঘর্ষ বিরতির দৌত্য করারা যুক্তিও আদালতে ধোপে টেকেনি। আদালত আপাতত ট্রাম্পের যাবতীয় শুল্কনীতিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক স্থগিত করেছে মার্কিন আদালত। বুধবার নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত এক আদেশে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন ট্রাম্প।
আমেরিকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক ওই আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্প তাঁর যে আইনি বাধ্যবাধকতা, তার বাইরে বেরিয়ে কাজ করেছেন। অর্থাৎ, মার্কিন আইনসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না-করেই এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চলেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, দেশে জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা কী করে করতে হবে, তা অনির্বাচিত বিচারকেরা স্থির করে দিতে পারেন না।
আদালতে করা দুটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। একটি মামলা করেছিল লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার নামের একটি আইনি সংস্থা। ট্রাম্পের শুল্কের নিশানা হওয়া দেশগুলো থেকে পণ্য আমদানি করে—এমন পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মামলাটি করেছিল তারা। অপর মামলাটি করা হয়েছিল আমেরিকার ১৩টি অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের তিনজন বিচারকের একটি প্যানেল আদেশে বলে, কংগ্রেসকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে দেশের সংবিধান। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সুরক্ষার জন্য প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতার মাধ্যমে তা বাতিল করা যায় না।
আদালতের আদেশের পর এর বিরুদ্ধে আপিলের একটি নোটিস দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বিচারব্যবস্থায় অভ্যুত্থান নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।
গত ২ এপ্রিল বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এর বাইরে বাণিজ্য ঘাটতিকে কারণ দেখিয়ে অনেক দেশের উপর উচ্চহারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন তিনি। এর জেরে বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। সপ্তাহখানেক বাদে চিন ছাড়া বাকি দেশগুলোর উপর ৯০ দিনের জন্য শুল্কনীতি স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময়ের মধ্যে দেশগুলোর সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর প্রশাসন।