অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরতে যাওয়া এমপি’দের সর্বদলীয় (all party delegation of MP’s to brief foreign countries on operation sindoor) প্রতিনিধি দল একে একে দেশে ফিরতে শুর করেছে।

মোদী আগামী সপ্তাহে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন
শেষ আপডেট: 3 June 2025 07:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরতে যাওয়া এমপি’দের সর্বদলীয় (all party delegation of MP’s to brief foreign countries on operation sindoor) প্রতিনিধি দল একে একে দেশে ফিরতে শুর করেছে। সরকারি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী সপ্তাহে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন (PM Modi will meet the delegation next week)। তাঁদের মুখ থেকে সফরের অভিজ্ঞতা শুনবেন। প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের দিন-তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ৯ বা ১০ জুন এই বৈঠক হতে পারে। মোট ৫৯ জন সাংসদ গত ২২ মে থেকে ৩৩টি দেশ সফর শুরু করেন।
তার আগে মঙ্গলবার থেকে সাংসদদের ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Foreign minister S Jaishankar)। বিজেপি’র এমপি বৈজয়ন্ত জয় পন্ডার টিনের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করবেন বিদেশমন্ত্রী। এই দলে আছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোলাম নবি আজাদ। সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরিন, আলজেরিয়া সফর করে রবিবার দিল্লি ফিরেছে দলটি। এই দলেই আছেন বিজেপির সাংসদ নিশিকান্ত দুবে, এআইএমওয়াই নেতা আসাউদ্দিন ওয়েইসি।
সরকারি সুত্রে জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সরকার সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের বিদেশ সফর নিয়ে একটি নথি প্রকাশ করবে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে মোদী সরকার প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে আগামী দিনে বড় করে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চায়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখাও সরকারের উদ্দেশ্য।
দলগুলি রওনা হওয়ার আগে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি সাংসদরে ব্রিফ করেন। মূলত দুটি বিষয়ের উপর ৩৩ দেশের নেতাদের অবহিত করেন ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল। এক. কীভাবে পাকিস্তান জঙ্গি সন্ত্রাসে মদত দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। দুই. কোন পরিস্থিতিতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ সামরিত অভিযান শুরু করতে বাধ্য হয়।
প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে আছেন কংগ্রেস নেতা শশী তারুর, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিএমকে নেত্রী কামিমোঝি। সফরের মধ্যেই শশী তাঁর কলামে অপারেশন সিঁদুরের প্রাপ্তি নিয়ে লিখেছেন, এরপরও পাকিস্তান জঙ্গি সন্ত্রাস থামাবে এমনটা আশা করা যায় না। দেশটি কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বললেও আসল উদ্দেশ্য ভারতের অভ্যন্তরে ধর্মীয় বিভাজন উসকে দেওয়া। পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির সম্প্রতি মন্তব্য করেন অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে মুসলিমরা নিরাপদ নয়। পাক সেনাপ্রধানের মন্তব্য তুলে ধরে শশী লিখেছেন, পাকিস্তানের ভারত বিরোধিতার কৌশলের গোড়ায় কাশ্মীর নয়, আছে ভারতের মুসলিমদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা।
বিদেশ সফরে এই ব্যাপারে পাকিস্তানের উদ্দেশে কড়া কথা শুনিয়েছেন এআইএমআইএম নেতা ওয়েইসি। তিনি বলেন, ভারতের মুসলিমদের পাকিস্তানের কাছ থেকে ইসলাম শিখতে হবে না। পাকিস্তান যেন মনে না করে ইসলামকে সামনে রেখে তারা ভারতের মুসলমানদের মন জয় করবে।
শশী তাঁর নিবন্ধে আরও লিখেছেন, অপারেশন সিঁদুর অতীতের অভিযানের তুলনায় অনেক সফল। একেবারে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে ভারত। তাঁর বক্তব্য, ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং সমরাস্ত্রের ভান্ডার অনেক ছোট হলেও যুদ্ধ বাঁধলে ইসলামাবাদ অনেক দিন চালিয়ে যেতে পারবে। কারণ কয়েকটি বড় দেশ তাদের পাশে আছে। চলতি সংঘাতে পাকিস্তান চিন ও তুরস্কের অস্ত্র ব্যবহার করে।