Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটল

একজন চান শান্তি, অন্যজন ধ্বংসলীলা! ইরান সংঘাত নিয়ে এবার মত মিলছে না ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর

দ্বিমুখী অবস্থান সামনে এসেছে এমন এক সময়, যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা পেলে তাঁর দেশ যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, শত্রুপক্ষ যদি আশ্বাস দেয় যে ভবিষ্যতে আর সংঘাত বাড়বে না, তবে ইরানও শান্তির পথে হাঁটতে আগ্রহী।

একজন চান শান্তি, অন্যজন ধ্বংসলীলা! ইরান সংঘাত নিয়ে এবার মত মিলছে না ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 1 April 2026 14:42

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমী দুনিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি (Middle East Conflict) নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই মতভেদ আমেরিকা ও ইজরায়েলের (US Israel Iran Clash) । একদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যখন ইঙ্গিত দিচ্ছেন দ্রুত সামরিক অভিযান শেষ করার, তখনই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের অভিযান এখনই থামছে না।

এই দ্বিমুখী অবস্থান সামনে এসেছে এমন এক সময়, যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা পেলে তাঁর দেশ যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, শত্রুপক্ষ যদি আশ্বাস দেয় যে ভবিষ্যতে আর সংঘাত বাড়বে না, তবে ইরানও শান্তির পথে হাঁটতে আগ্রহী।

এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকা ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে পারে। তাঁর কথায়, “আমরা খুব শীঘ্রই সরে যাব।” তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের জন্য ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়াও যুদ্ধের ইতি টানা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

তবে এই অবস্থান নতুন নয়। এর আগেও ট্রাম্প কখনও সংঘাত বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আবার কখনও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথের কথা বলেছেন। এক সময় তিনি ইরানের সামনে একাধিক শর্তও রেখেছিলেন - পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ খোলা রাখা, এই দাবিগুলি মানতে না পারলে সামরিক পদক্ষেপ বাড়ানো হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন।

কিন্তু মঙ্গলবারের বক্তব্যে তিনি সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা রাখার দায়িত্ব আমেরিকার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বরং যে দেশগুলি ওই পথের উপর নির্ভরশীল, তাদেরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে জানান ট্রাম্প। এমনকি ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিজেরাই জোগাড় করুক তারা।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই নরম সুরের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন নেতানিয়াহু। একটি টেলিভিশন বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর কথায়, এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি, বরং আরও জোরদার করা হবে। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের ফলে আরব দুনিয়ার শক্তির ভারসাম্য বদলে গিয়েছে এবং ইজরায়েল আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। সেই সময় আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ পদক্ষেপে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর পর থেকেই সংঘাত চরমে ওঠে। পরবর্তীতে একাধিক পাল্টা আক্রমণে গোটা অঞ্চল জুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে পর্দার আড়ালে এই যুদ্ধের কূটনৈতিক দিক নিয়েও নানা জল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চাপেই আমেরিকা এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। এমনকী মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে বলেই খবর। এক পর্যায়ে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনের ঘটনাও সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধক্ষেত্রে জোটবদ্ধ থাকলেও কৌশলগত দিক থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই মতপার্থক্য ভবিষ্যতের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এখন দেখার, এই ভিন্ন অবস্থান শেষ পর্যন্ত সংঘাতের গতি কোন দিকে নিয়ে যায়।


```