WHO-র বিরুদ্ধে মূলত কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, অতিমারির সময় সংস্থার ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 January 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান ঘটাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)। সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO (World Health Organization) থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবার WHO-র সদস্য তালিকা থেকে বাদ পড়ল আমেরিকা।
যদিও এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্সি পর্বেই, ২০২০ সালে, WHO থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন, ২০ জানুয়ারি ২০২৫-এ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন তিনি। মার্কিন আইনের একটি বিশেষ ধারার কারণে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে সময় লেগেছে, যা চলতি সপ্তাহে পূর্ণতা পেল।
রুবিও ও কেনেডির যৌথ বিবৃতিতে WHO-র বিরুদ্ধে মূলত কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, অতিমারির সময় সংস্থার ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছে। সেই কারণেই ভবিষ্যতে WHO-র সঙ্গে আমেরিকার যোগাযোগ সীমিত থাকবে শুধুমাত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, WHO-কে দেওয়া সমস্ত মার্কিন আর্থিক অনুদান ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে।
এর জেরে আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)। সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস চলতি মাসের শুরুতেই জানিয়েছিলেন, মার্কিন অর্থসাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় WHO-কে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয়সংকোচনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকও বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর WHO-র কাজে অংশ নিচ্ছে না, যদিও কিছু আইনি জটিলতা এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্বাস্থ্য এমন একটি বিষয় যা কোনও সীমানা মানে না। ভাইরাস হোক বা অসংক্রামক রোগ - এই সব সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়, আর সেই সহযোগিতার প্রধান মঞ্চই WHO।
সংস্থার প্রধান আইনি আধিকারিক স্টিভেন সলোমনের বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন নথিতে প্রত্যাহারের কোনও ধারা রাখা হয়নি, কারণ WHO-কে একটি সর্বজনীন সংগঠন হিসেবেই ভাবা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পরে একটি বিশেষ শর্ত যোগ করে, যার মাধ্যমে এক বছরের নোটিস এবং চলতি আর্থিক বছরের সম্পূর্ণ আর্থিক দায় মেটালে সদস্যপদ ছাড়ার সুযোগ রাখা হয়। যদিও সলোমন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চাঁদা বকেয়া রেখেছে। যা আনুমানিক ২৬ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা)।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য কর্মী লাকি ট্রান সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, WHO বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে একত্রিত করে মৃত্যুহার ও রোগব্যাধি কমাতে ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর মতে, সংস্থাটি নিখুঁত না হলেও, বাইরে চলে যাওয়ার বদলে ভিতরে থেকেই সংস্কার করা উচিত ছিল।
সংস্থাটি যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয় এবং ইবোলা বা যক্ষ্মার মতো মারাত্মক রোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের আগে WHO-র সদস্য সংখ্যা ছিল ১৯৪।