মর খালিদের জামিন পাওয়ার আগে নিউইয়র্কে নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তাঁর বাবা সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 3 January 2026 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলবন্দি সমাজকর্মী উমর খালিদ (Umar Khalid) তাঁর বোনের বিয়েতে যাওয়ার জন্য ১৪ দিনের জামিন পাওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে, নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির (Zohran Mamdani) সঙ্গে উমরের বাবা সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াসের এক বিশেষ বৈঠক হয়। গত ৯ ডিসেম্বর প্রায় ২৫ মিনিটের সেই বৈঠকে মেয়র মামদানি সাধারণ মানুষের ইস্যুগুলো তুলে ধরার জন্য উমর খালিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর হাতে একটি চিঠিও লিখে দেন।
উমর খালিদের বাবা এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপত্র সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিউইয়র্কের মেয়র-ইলেক্ট জোহরান মামদানির সঙ্গে তাঁর এক ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালে উমরের জেলের ডায়েরি পাঠ করার জন্য মূলত মেয়রকে ধন্যবাদ জানাতেই এই বৈঠকটি ডেকেছিলেন ইলিয়াস। বৈঠকে মামদানি উমরের বন্দিজীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, উমরের এখন জামিন পাওয়া উচিত।
চিঠিতে কী লিখেছেন মেয়র? মেয়র মামদানি উমরকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন, উমরের বলা 'তিক্ততা' সংক্রান্ত কথাগুলো তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। মানুষের মনে যাতে ঘৃণা বা তিক্ততা জন্ম না নেয়, সেই গুরুত্বের কথা চিঠিতে মনে করিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি উমরের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি খুশি এবং উমরের জন্য তাঁরা সকলে ভাবছেন বলেও জানান। মামদানি এবং খালিদ, উভয়েই সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হন বলে দু’জনের মধ্যে এক ধরণের মিল খুঁজে পান মেয়র।
উমর খালিদের এই ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলোচনা শুরু হয়েছে। জিম ম্যাকগভর্ন এবং জেমি রাসকিনসহ আটজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রাকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় উমরসহ অভিযুক্তদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা এই তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে জেলে থাকা উমর খালিদকে তাঁর বোনের বিয়ের জন্য আগামী ১৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা গৌরব ভাটিয়া জানিয়েছেন যে, উমরের মামলাটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। উমরের বাবা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক শুনানির কথা উল্লেখ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খুব শীঘ্রই ইতিবাচক কিছু ঘটবে।