পশ্চিম এশিয়ার চলতি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি ঐক্য সংগঠন হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃরাষ্ট্র সংস্থা।
শেষ আপডেট: 20 June 2025 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মধ্যেই শনি ও রবিবার তুরস্কের রাজধানী ইস্তানবুলে বসতে চলেছে ইসলামি ঐক্য সংগঠনের (Organisation of Islamic Cooperation) ৫১-তম অধিবেশন। পশ্চিম এশিয়ার চলতি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অধিবেশনে হাজির থাকবেন সংগঠনের ৫৭টি সদস্য দেশের বিদেশমন্ত্রীরা। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও হাজির থাকবেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রক।
ইসলামি ঐক্য সংগঠন হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃরাষ্ট্র সংস্থা। রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরেই রয়েছে এর স্থান। জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে হামলার পর ১৯৬৯ সালে গঠিত হয় ওআইসি (OIC)। এর প্রধান লক্ষ্য হল- মুসলিম দুনিয়াকে সুরক্ষিত রাখা। আন্তর্জাতিক শান্তি, সুস্থিতি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলি একে অপরকে সাহায্যের অঙ্গীকার বদ্ধ থাকা। সেই দিক থেকে ইজরায়েলি হানাদারির পরিবেশে এই অধিবেশনের গুরুত্ব অনেক বেশি। ইরানের দিক থেকে চেষ্টা থাকবে যে, ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলির সমর্থন ও ঐক্যবদ্ধতা আদায় করা।
অন্যদিকে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠকে বসছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তাঁকে উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। আরাকচি এ-ও জানান, এই তিন দেশের অনুরোধে জেনেভায় বৈঠকে বসবেন তিনি। সেই বৈঠকে থাকবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকও। তাতে অনেকেই জল্পনা শুরু করেছেন যে, ইরান বোধহয় মার্কিন মদতপুষ্ট ইজরায়েলের কাছে পরোক্ষে হার মেনে নিতে চলেছে।
এই দুটি আলোচনাই গুরুত্বপূর্ণ হলেও মুসলিম দুনিয়া যদি ইরানের পাশে থাকে, তাহলে আমেরিকার পক্ষেও ইউরোপীয় দেশগুলির সমর্থন আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ এতে প্রত্যক্ষত প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমি যে সেই দিকে গড়াবে না, তার ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে দু-সপ্তাহ সময় নেওয়ায়। কারণ ইতিমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গিয়ে আমেরিকা লাভ কী হবে!
এদিক থেকে ইসলামি ঐক্য সংগঠনের অধিবেশন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইরানের কাছে। সংগঠনের বিদেশমন্ত্রীদের পরিষদীয় বৈঠকের নেতৃত্বে থাকছেন তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৃহস্পতিবার তুরস্কের সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইজরায়েলের অশান্তি ছড়ানোর কাজকে নিন্দা করে যৌথ ব্যবস্থা গ্রহণের ডাক দিতে পারেন ফিদান। কারণ, এবারে বৈঠকের বিষয়বস্তুই হচ্ছে, ‘পরিবর্তিত পৃথিবী’।
এই বৈঠকের পাশাপাশি ইরানি বিদেশমন্ত্রী সকলের কাছে সামরিক, আর্থিক, রাজনৈতিক সাহায্য দাবি করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের সদস্য রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হলে মহা প্যাঁচে পড়তে পারেন ‘বিশ্বদাদা’ ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এর্দোগান, যিনি ইজরায়েলি হানাদারির কড়া নিন্দা করেছেন গত বুধবার, তিনিও অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে পারেন। অর্থাৎ, অনেকেরই ধারণা এই অধিবেশনের অধিকাংশটাই জুড়ে থাকবে ইসলামি রাষ্ট্রের উপর ইহুদিদের অন্যায় হানাদারির প্রসঙ্গ। যাতে আখেরে লাভ হবে ইরানেরই।