ছেলে আবনারের বিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ছেলে আবনার ও তাঁর ভাবী পুত্রবধূ।
শেষ আপডেট: 20 June 2025 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সঙ্গে চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ছেলের বিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য পিছিয়ে দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে সেই যুদ্ধের সঙ্গে নিজের পরিবারের ত্যাগ-তিতিক্ষাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামাম ইজরায়েলি জনতার টিটকারির শিকার হচ্ছেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী। ইরানি হানায় বিপর্যস্ত বিরশেবার সোরোকা হাসপাতালের সামনে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে একথা বলে ফেলেন নেতানিয়াহু।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী সারার ছেলে আবনারের বিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ‘ব্যক্তিগত মাশুল’ চোকাতে হচ্ছে। তাঁর পরিবার অন্য সকলের মতো ত্যাগের পথে চলছে এখন। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে আরও বলেন, বিয়ে পিছিয়ে যাওয়ায় তাঁর ছেলে আবনার, তাঁর প্রেমিকা এবং স্ত্রী সারা খুবই কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু, দেশের এই পরিস্থিতিতে তাঁকে এবং তাঁদের এই ব্যক্তিগত ক্ষতি মেনে নিতেই হচ্ছে।
‘যুদ্ধের ব্যক্তিগত মূল্য’ চোকানোর সপক্ষে নেতানিয়াহু জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের মতো পরিস্থিতি এখন দেশে। ব্লিৎজ ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, হিটলারের নাজি বাহিনীর বোমাবর্ষণে সেবার ৪০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। উল্লেখ্য, আবনারের প্রথমবার বিয়ে ঠিক হয়েছিল গত নভেম্বরে। কিন্তু, সেবার হিজবুল্লার ড্রোন হামলা হয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভবনে। যদিও নেতানিয়াহু সে সময় বাড়িতে ছিলেন না। কিন্তু, সেই বিয়ে ঠিক করা নিয়েও ইজরায়েলি মানুষের গাল শুনতে হয়েছিল রাষ্ট্রপ্রধানকে। কারণ তখনও গাজায় হিজবুল্লার হাতে বন্দি ছিলেন অনেক ইজরায়েলি পুরুষ ও নারী। ওই অবস্থায় বিয়ের মতো আনন্দ উৎসবের আয়োজন করার সমালোচনা শুনতে হয়েছিল তাঁকে।
সেই বিয়ের তারিখ নতুন করে ঠিক হয়েছিল গত সোমবার, ১৬ জুন। কিন্তু, ইরানের উপর হামলা করে দেওয়ার পরিস্থিতিতে সেই তারিখও আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী ছেলের বাবা। সোরোকা হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, আমাদের প্রত্যেকেই ভারী মাশুল গুনছি। সেখানে আমার পরিবারও ব্যতিক্রম নয়। একইসঙ্গে নিজের স্ত্রী সারাকে এই পারিবারিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার কারণে ‘হিরো’ বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধ-ব্যাখ্যাকে ভালভাবে মেনে নেননি দেশের মানুষ। বহু মানুষ বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের সঙ্গে ইজরায়েলের তুলনা উচিত কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ভাবনায় দেশের তুলনায় ব্যক্তিগত ক্ষতির চিন্তা বেশি পরিমাণে দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরই জনতা তাঁকে টিটকারি বর্ষণ করছেন মুহুর্মুহু। অ্যানাট অ্যাঙ্গরেস্ট নামে একজন লিখেছেন, যাঁরা ছেলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থকে গাজায় বন্দি, আমার পরিবার তো কোনও যন্ত্রণাই ভোগ করেনি। আমরা যে ৬২২ দিন ধরে একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে কাটাচ্ছি, সেটা তো কিছুই নয়!
বিশেষ করে স্ত্রী সারাকে হিরো বলায় আরও বেশি নিন্দিত হয়েছেন নেতানিয়াহু। একজন প্রধানমন্ত্রীকে ‘সীমাহীন আত্মমুগ্ধ’ চরিত্র বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলের বিয়ের দুঃখ সামাল দেওয়ায় স্ত্রী যদি হিরো হয়ে যান, তাহলে দেশের সেইসব ডাক্তার, শিক্ষকরা কী? এখন ডাক্তাররা দিনরাত কাজ করে চলেছেন, তাঁদের পরিবার, ঘরদোর, বউ-বাচ্চা নেই! শিক্ষকরা জুম ও ফোন কলে বাচ্চাদের পড়িয়ে চলেছেন, তাঁরা কেন হিরো নয়!