মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা নিয়ে চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে বেইজিংয়ের জবাব হবে যথেষ্ট কঠিন, কঠোর।

আমেরিকা-চিন সম্পর্ক
শেষ আপডেট: 11 October 2025 07:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের সঙ্গে ফের সংঘাতে জড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। চিনের পণ্যের উপর আরও ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি (US impose 100% tariff on China)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর সমাজ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভারতীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘোষণা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা নিয়ে চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে বেইজিংয়ের জবাব হবে যথেষ্ট কঠিন, কঠোর। বাণিজ্য যুদ্ধে মাত্র চিন ধারাবাহিকভাবে আমেরিকাকে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চিনে মার্কিন পণ্য প্রবেশে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা জারি। পাশাপাশি বেশ কিছু মার্কিন কোম্পানির উৎপাদনেও রাশ টেনেছে বেজিং।
এদিকে, ট্রাম্পের নয়া সিদ্ধান্ত কার্যত চিনের বিরুদ্ধে বদলা বলেই সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। বৃহস্পতিবার থেকেই চিন বিরল খনিজ পদার্থ নিয়ে নয়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বেজিংয়ের কর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরল খনিজ পদার্থ এবং তা থেকে তৈরি সামগ্রী রপ্তানির আগে প্রতিটি সংস্থাকে সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি চিন বিভিন্ন দেশকে চিঠি লিখে বিরল খনিজ নিয়ে সতর্ক করেছে।
চিনের এই সিদ্ধান্তেই বেজায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি মনে করছেন এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার বাণিজ্য প্রসার নীতির পরিপন্থী। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, চিনা পণ্যের উপর যে পরিমাণ শুল্ক আছে, ১ নভেম্বর থেকে তার উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ গুণতে হবে।
এ মাসের শেষেই দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের বৈঠকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা। শুল্ক নিয়ে নয়া সিদ্ধান্তের পর সেই বৈঠক হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি বৈঠক বাতিল করছেন না। তবে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হবে কিনা সেটা তাঁর ওপর নির্ভর করছে না। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তিনি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত।
বিরল খনিজ নিয়ে চিনের সিদ্ধান্তকে অপ্রত্যাশিত আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন এটা গোটা বিশ্বের জন্যই একটা ধাক্কা। কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই চিন এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, বিরল খনিজে আমেরিকার ভান্ডার পূর্ণ করতে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের উপর নানা ধরনের চাপ তৈরি করছেন। সেই সময় পাল্টা চাপ তৈরি করেছে বেজিং।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হয়েছিল চিন যদি বিরল খনিজ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে কি তিনিও অতিরিক্ত শুল্ক নেওয়া বন্ধ করবেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
এদিকে, বিরল খনিজ নিয়ে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বেজিং এক বিবৃতিতে বলেছে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে দেশের স্বার্থকে বিবেচনায় রেখে। এর সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত।