রাশিয়া-ইউক্রেনের সমস্যায় মার্কিন মধ্যস্থতায় যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে, তার নিয়ন্ত্রণ যে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের হাতেই, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শেষ আপডেট: 27 December 2025 07:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে (Russia Ukraine war talks) মার্কিন মধ্যস্থতায় যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে (Ukraine peace plan), তার নিয়ন্ত্রণ যে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের হাতেই, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির (Volodymyr Zelensky) সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ঠিক আগেই (Trump Zelensky meeting) ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া জেলেনস্কির হাতে কার্যত কিছুই নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত ওঁর হাতে কিছুই নেই। তাই উনি বদলে কী ভাগ করে নিচ্ছেন, সেটা আমরা দেখব।”
এদিকে রবিবার ফ্লোরিডায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা। ট্রাম্প জানান, তিনি মনে করছেন এই বৈঠক ফলপ্রসূ হতে পারে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও শিগগিরই কথা বলতে পারেন।
“আমি পুতিনের সঙ্গে খুব শিগগিরই কথা বলব, যতবার দরকার পড়বে, কথা হবে,” বলেন ট্রাম্প।
ফ্লোরিডার বৈঠকে জেলেনস্কির মূল আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত প্রশ্ন, যা শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বৈঠক এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে তৈরি ২০ দফার একটি শান্তি কাঠামো এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা ঘোষণা করে জেলেনস্কি বলেন, নতুন বছরের আগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তারই অঙ্গ এই আলোচনা।
রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, “সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ডনবাস এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র - এই দু’টি বিষয় অবশ্যই আলোচনায় থাকবে। পাশাপাশি আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়েও কথা হবে।”
এদিকে অ্যাক্সিওস জানায়, জেলেনস্কি আলাদা মন্তব্যে বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে গণভোট করতে তিনি রাজি, তবে শর্ত একটাই। রাশিয়াকে অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে, যাতে ইউক্রেন সেই গণভোটের প্রস্তুতি নিতে এবং তা আয়োজন করতে পারে।
অন্যদিকে মস্কোর অবস্থান বেশ কড়া। রাশিয়া চায়, ইউক্রেন পূর্ব ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সেই অংশগুলি থেকেও সেনা সরিয়ে নিক, যেগুলি প্রায় চার বছরের যুদ্ধে এখনও পুরোপুরি দখল করতে পারেনি রুশ বাহিনী। রাশিয়ার লক্ষ্য, সম্পূর্ণ ডনবাস অঞ্চল, ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা।
ইউক্রেনের অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টো। কিভ চায়, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই সংঘর্ষ বন্ধ হোক।
এই টানাপড়েনের মাঝেই আপসের পথ খুঁজতে আমেরিকা প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেন যদি ওই এলাকা ছাড়ে, তাহলে সেখানে একটি ‘ফ্রি ইকোনমিক জোন’ গঠন করা হবে। যদিও এই অর্থনৈতিক অঞ্চল কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের আগেই যে শান্তি আলোচনার চাপ অনেকটাই ইউক্রেনের ঘাড়ে, তা ট্রাম্পের মন্তব্যেই স্পষ্ট।