এক্স-এ জেলেনস্কি লেখেন, “একটি দিনও নষ্ট করছি না। সর্বোচ্চ স্তরে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। খুব শিগগিরই সেই বৈঠক হবে।"

জেলেনস্কি ও ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 December 2025 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের আগেই অনেক কিছু চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। ইঙ্গিত দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Ukrainian President Volodymyr Zelensky)। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে চলেছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine War) অবসান নিয়ে আলোচনায় এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক্স-এ জেলেনস্কি লেখেন, “একটি দিনও নষ্ট করছি না। সর্বোচ্চ স্তরে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। খুব শিগগিরই সেই বৈঠক হবে। নতুন বছরের আগেই অনেক কিছু নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।”
এর আগের দিনই জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তাঁর ‘ভাল আলোচনা’ হয়েছে। এই ঘোষণার মধ্যেই স্পষ্ট, যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প প্রশাসন জোরদার কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে।
যদিও মস্কো (Moscow) ও কিয়েভের (Kyiv) অবস্থান এখনও একে অপরের থেকে অনেকটাই দূরে। মঙ্গলবার জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনে ইউক্রেন দেশের পূর্ব শিল্পাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হতে পারে, যদি রাশিয়াও একই পথে হাঁটে এবং সেই অঞ্চল আন্তর্জাতিক বাহিনীর নজরদারিতে নিরস্ত্রীকৃত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অবশ্য বৃহস্পতিবার বলেন, শান্তি আলোচনায় “ধীর কিন্তু স্থির অগ্রগতি” হচ্ছে। তবে মস্কো এখনও দখল করা ভূখণ্ড থেকে সেনা সরানোর কোনও ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। বরং রাশিয়ার দাবি, ডনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনের হাতে থাকা বাকি এলাকাও ছেড়ে দিতে হবে, যা কিয়েভ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, ডনবাসের অন্তর্গত লুহানস্কের প্রায় পুরোটাই এবং দোনেৎস্কের প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যেই রাশিয়ার দখলে।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা অব্যাহত। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত রুশ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের মিকোলাইভ শহর ও সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পাল্টা জবাবে ইউক্রেন জানায়, ব্রিটিশ সরবরাহ করা ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা রাশিয়ার একটি বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের দাবি, রোস্তভ অঞ্চলের নভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা সম্ভব হয়েছে। রোস্তভের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, আগুন নেভানোর সময় এক দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে ইউক্রেন মূলত মস্কোর তেল রফতানি থেকে পাওয়া অর্থনৈতিক জোগান কমাতে চাইছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে নিশানা করে শীতকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, এমনটাই অভিযোগ কিয়েভের।