ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন। কথায় হবে না আর, এই সংঘর্ষ চলবে। অন্যদিকে, ইরানেরও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, উল্টোদিক থেকে হামলা বন্ধ না হলে তারাও থামবে না।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 4 March 2026 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখনই ইতি টানতে চাইছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। সর্বশক্তি দিয়ে 'শত্রু' দেশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে আমেরিকা (Iran-US Conflict)। হামলা-পাল্টা হামলার এই যাত্রা পঞ্চম দিনে পড়ল আজ। এদিকে সংঘর্ষ যত তীব্র হচ্ছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপ পড়ছে। পেন্টাগন (Pentagon) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীর কাছে আরও ১০ দিন অভিযান চালানোর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নেই।
শুক্রবার বিকেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) জানান যে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন। তিন ঘণ্টা পরই তিনি হামলার নির্দেশ দেন, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ দেশের বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়।
এর প্রতিশোধে ইরান বাহরিন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ও সেনাঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন। কথায় হবে না আর, এই সংঘর্ষ চলবে। অন্যদিকে, ইরানেরও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, উল্টোদিক থেকে হামলা বন্ধ না হলে তারাও থামবে না।
মিসাইল ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে যে যুদ্ধ দীর্ঘ সময়ে টানলে মার্কিন মিসাইল (Pentagon Warns Of Low Missile Stock) ও যুদ্ধাস্ত্রের মজুত পুনরায় ভরাট করতে বিপুল খরচ হতে পারে। যদিও মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আমেরিকার কাছে যে পরিমাণ অস্ত্র মজুত আছে, তা দিয়ে চিরকাল যুদ্ধ চালানো সম্ভব।
কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল- যা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যবহৃত হয়, সেগুলির দ্রুত ঘাটতি দেখা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিছুটা ফুরিয়ে এসেছে, বিশেষত ইজরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার পর।
গত বছরের ইরান যুদ্ধেই আমেরিকা ২৫ শতাংশ THAAD ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল- মোট ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র। তখনও জাহাজভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর দ্রুত শেষ হয়ে গিয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, JDAM স্মার্ট অস্ত্র, SM-3 অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ও অন্যান্য উন্নত প্রতিরক্ষা অস্ত্রভান্ডারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এদিকে ইরান মাসে ১০০-রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যেখানে আমেরিকা মাসে মাত্র ৬-৭টি ইন্টারসেপ্টর বানাতে পারে।
গত শনিবার ইজরায়েল-আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা (Iran-Israel-US Conflicts) চালায়। সূত্রে খবর, মার্কিন বাহিনীর হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় খরচ হয়েছে ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ অন্তত একমাস বা তার বেশি সময়েও চলতে পারে। অর্থাৎ এই খাতে খরচ যে আরও বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (Center for New American Security) তথ্য বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার USS Gerald R Ford-সহ একটি ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’ পরিচালনায় দৈনিক খরচ প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার।
বিমান মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ পাঠানো, আঞ্চলিক ঘাঁটি সক্রিয় করা- ইরান অভিযানের আগে মার্কিন সেনা যে বিশাল সামরিক প্রস্তুতি নেয় তারজন্য খরচ প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার।