ডেডলাইন ঘনিয়ে আসতেই তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি না হলে গোটা সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার বার্তা!
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 7 April 2026 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুক্তি না হলে “আজ রাতেই গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে,” ঠিক এই ভাষাতেই ইরানকে (Iran) নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শান্তি চুক্তি (Peace Deal) না হলে গোটা দেশ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন কয়েকদিন আগে। মঙ্গলবার সেই ডেডলাইন শেষ হওয়ার কথা, তার আগেই এল নতুন হুঁশিয়ারি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ডিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু তা না হলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। আমি চাই না এমন হোক কিন্তু মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এটাই হবে। অ্যাক্সিওস (Axios) ও ফক্স নিউজের (Fox News) রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত না হলে ইরানের উপর বড়সড় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইতিমধ্যেই “ধ্বংসপ্রাপ্ত” (Decimated)। যেভাবে শেষ কয়েকদিনে হামলা হয়েছে তাতে নাকি ওই দেশে ব্রিজ (Bridge), পাওয়ার প্ল্যান্ট (Power Plant) সব বানাতে হবে নতুন করে। এমন অবস্থা আগে কোনও দেশের হয়নি। যদিও একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি (Civilian Casualties) নিয়ে উদ্বেগওপ্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী আন্দোলন (Anti-Government Protests) থাকায়, দেশের একাংশ তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করতে পারে।
এদিকে গত দু’সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন (Washington) ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা (Indirect Talks) চলছে পাকিস্তান (Pakistan), মিশর (Egypt) ও তুরস্কের (Turkey) মাধ্যমে। মূল লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়া। তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও অগ্রগতি হয়নি।
অ্যাক্সিওসের (Axios) রিপোর্ট বলছে, মধ্যস্থতাকারীরা খুব আশাবাদী না হলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আংশিক চুক্তি (Partial Agreement)-র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ট্রাম্পের আলটিমেটাম (Ultimatum) অন্তত কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায়।
এদিকে পাল্টা জবাব এসেছে ইরান থেকেও। দেশের সংসদের স্পিকার (Parliament Speaker) মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) কড়া ভাষায় বলেন, “আপনার বেপরোয়া পদক্ষেপ আমেরিকার প্রতিটি পরিবারকে জীবন্ত নরকে (Living Hell) ঠেলে দিচ্ছে।” পাশাপাশি ইজরায়েলের (Israel) প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) প্রভাবেও ট্রাম্প কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হচ্ছে। সময়সীমা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা।