এই হামলার জবাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, নাগরিক পরিকাঠামোর ওপর হামলা, এমনকি অসম্পূর্ণ সেতুতে আঘাত, ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না।
.jpg.webp)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 3 April 2026 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বি১-এ হামলার পর তেহরানকে সরাসরি সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বার্তা, “এখনই চুক্তি সেরে ফেলা উচিত, নাহলে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে (Trump Iran Bridge Strike Warning)।”
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে দেখা যায়, একটি বিশাল সেতুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে এলাকা। ট্রাম্প দাবি করেন, এটি ইরানের সবচেয়ে বড় সেতু, যা ওই হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।
ফার্স নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানকে পশ্চিমের শহর কারাজের সঙ্গে যুক্ত করা একটি হাইওয়ে ব্রিজে বৃহস্পতিবার হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওতেও দিনের শুরুতে হওয়া সেই হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট ধরা পড়ে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
এই ঘটনার পর ট্রাম্প আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, ইরান যদি এখনই নিজেদের অবস্থান না বদলায়, তাহলে দেশটির মারাত্মক ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, “AND THERE IS NOTHING LEFT OF WHAT STILL COULD BECOME A GREAT COUNTRY!”—অর্থাৎ, এখনও যে দেশটি বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারত, তার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
ট্রাম্পের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে যে, এই হামলার পিছনে আমেরিকার ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই হামলার বিষয়ে অবগত নয়। অন্যদিকে, কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এটি মার্কিন হামলাই হতে পারে।
এই হামলার জবাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, নাগরিক পরিকাঠামোর ওপর হামলা, এমনকি অসম্পূর্ণ সেতুতে আঘাত, ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না।
পাল্টা চাপ বজায় রাখছে ইরান
একদিকে ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন যে, ইরানের হুমকি অনেকটাই কমে এসেছে। তবে, বাস্তবে তেহরান চাপ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারই ইরান ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলির দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মাধ্যমে তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, এখনও তারা গোটা অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইরানের এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে, যার প্রভাব আরব দুনিয়ার বাইরেও পড়ছে। এই পরিস্থিতিই যুদ্ধের মধ্যে ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ
যুদ্ধ শেষ হলে কীভাবে হরমুজ প্রণালী আবার চালু করা যায়, তা নিয়ে ব্রিটেন ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।
ট্রাম্প এক ভাষণে বলেন, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে এই প্রণালী দখল করা সম্ভব। তবে তা আমেরিকার নয়, অন্য দেশগুলিরই করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, যে দেশগুলি হরমুজ প্রণালীর তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরই এগিয়ে এসে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগে হরমুজ প্রণালী খোলা ছিল। সেই সময় বিশ্বে বাণিজ্যিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।