মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার এই আবহে ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। “শত্রুরা বাঁচতে পারবে না”, এই কড়া বার্তা দিয়ে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি।

‘প্রস্তর যুগ’-এ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকির পাল্টা জবাব ইরানের
শেষ আপডেট: 2 April 2026 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ‘প্রস্তর যুগ’-এ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকির জবাবে তীব্র পাল্টা আক্রমণ শানাল তেহরান (Iran US stone age comment response)। আমেরিকাকে সরাসরি কটাক্ষ করে ইরানের এক শীর্ষ সামরিক আধিকারিক বলেছেন (Iran military response to US), “মাত্র ২৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে ৬,০০০ বছরের সভ্যতাকে হুমকি দেওয়াটা নিছকই বিভ্রম।”
ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান সইদ মাজিদ মুসাভি এই মন্তব্য করেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের একটি পোস্টের জবাবে লেখেন, “আপনারাই নিজেদের সেনাদের কবরের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ইরানকে ‘প্রস্তর যুগ’-এ ফেরানোর হুমকি দিচ্ছেন, অথচ আপনারাই বিভ্রান্তির শিকার।”
তিনি আরও বলেন, “হলিউডের কল্পনায় এতটাই প্রভাবিত আপনারা যে, নিজেদের সামান্য ২৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে ৬,০০০ বছরের এক সভ্যতাকে হুমকি দিচ্ছেন।”
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি একটি পোস্টে লিখেছিলেন, “প্রস্তর যুগে ফিরে যাক (ইরান)।” এই মন্তব্যের আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগ’-এ ফেরানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ইরানের নতুন সরকার যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ মুক্ত ও নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। তাঁর ভাষায়, “প্রয়োজনে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে, অথবা যাকে বলা হয়, ‘প্রস্তর যুগ’-এ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার এই আবহে ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান। “শত্রুরা বাঁচতে পারবে না”, এই কড়া বার্তা দিয়ে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি।
সরকারি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, সেনার বিভিন্ন অপারেশনাল ইউনিটকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, শত্রুপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিতে এবং নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে হবে।
অন্যদিকে সূত্রের খবর বলছে, ইরানে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম দখল করার দিকে লক্ষ্যস্থির করে এগোচ্ছে আমেরিকা। সে ক্ষেত্রে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিতে রয়েছে দেশটি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলার জেরে শুরু হওয়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখন পঞ্চম সপ্তাহে পড়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এই সরু এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়, ফলে এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এর জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং ভারত ও চিনের মতো বড় বাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন, খুব শীঘ্রই আমেরিকা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছবে। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আরও বড় পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা যে আরও বাড়তে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।