২-৩ সপ্তাহে বড় আঘাতের ইঙ্গিত, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিশ্বকে বার্তা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 2 April 2026 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং তাদের অধিকাংশ নেতা নিহত—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, খুব শীঘ্রই আরও বড় জয়ের মুখ দেখবে আমেরিকা (Iran War)। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানো হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষমতাও এখন প্রায় নেই বললেই চলে। পাশাপাশি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে হামলার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ট্রাম্প। সেই ভাষণেই তিনি জানান, এই যুদ্ধে ইরানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং দ্রুতই এই সংঘাতের ইতি টানতে চাইছে আমেরিকা। তাঁর কথায়, শুরু থেকেই কূটনীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা ও ইজরায়েলের সব ধরনের প্রস্তাব ও সমঝোতার উদ্যোগই প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের নেতাদের সন্ত্রাসবাদী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, যদি চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। প্রয়োজনে দেশের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে আঘাত হানার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এতে ইরানের সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, এই মুহূর্তে ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর ওপর ইরানের নতুন সরকারের কার্যত কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়েছে এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র, কারখানা ও রকেট লঞ্চার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, আমেরিকার শত্রুরা ক্রমাগত হারছে এবং তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বে আমেরিকা আগের মতোই জয়ী হচ্ছে।
আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। এই আঘাত ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সমস্যায় পড়া দেশগুলিকে আমেরিকার কাছ থেকে তেল কেনার প্রস্তাব দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, চাইলে আমেরিকার কাছ থেকে জ্বালানি কিনতে পারে বিভিন্ন দেশ, অথবা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে তেল সংগ্রহ করতে পারে। গাল্ফ দেশগুলিতে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তাঁর মতে, সাহস দেখিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের তেলের ভাণ্ডারে হামলা চালানোর ক্ষমতা ও সুযোগ আমেরিকার থাকলেও তারা এখনও তা করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই এই সংযম দেখানো হয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।