ইন্দোনেশিয়ায় ভোররাতে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। মলুকা সাগরে কেন্দ্রস্থল, প্যাসিফিক সুনামি সেন্টারের সতর্কতা। ফিলিপিন্স ও মালয়েশিয়াতেও প্রভাবের আশঙ্কা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 2 April 2026 08:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোররাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া (Indonesia)। বৃহস্পতিবার ভোরের এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে একাধিক অঞ্চলে। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (US Geological Survey) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৪ (Earthquake)। এই প্রবল কম্পনের জেরে সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে আমেরিকার মনিটরিং সেন্টার। ইতিমধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে মলুকা সাগরে আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মাজু দ্বীপের কাছে মলুকা সাগরে, যা টারনাটে থেকে প্রায় ১১৯ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। কেন্দ্রস্থলের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ১৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং এর উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার উপকূলবর্তী এলাকায় হওয়া এই ভূমিকম্পের পর হাওয়াই-এ অবস্থিত প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করেছে। শুধু ইন্দোনেশিয়াই নয়, ফিলিপিন্স এবং মালয়েশিয়ার উপকূলেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর সুলাওয়েসি অঞ্চলে একটি ক্রীড়া ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কম্পন অনুভূত হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। উত্তর সুলাওয়েসির একটি স্কুলে তখন ক্লাস শুরু হয়েছিল, ভূমিকম্পের জেরে পড়ুয়ারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসে। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছুক্ষণ ধরেই কম্পন অনুভূত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের ঘন ঘন নড়াচড়ার কারণে এই অঞ্চল ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই সেখানে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে।
গত কয়েক মাসেও একাধিক বড় ভূমিকম্প হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর শহরে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪,৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যা দেশের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত।
এরও আগে, ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতদের অধিকাংশই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বাসিন্দা। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও তাজা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের কাছে।