জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার সরকারি অফিসে সপ্তাহে দু’দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে এখনই তা চালু হচ্ছে না, সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস খোলা থাকবে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 2 April 2026 08:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সরকারি অফিসে সপ্তাহে দু'দিন কর্মচারীদের ওয়ার্ক ফর্ম হোম ব্যবস্থা এখনই চালু হচ্ছে না। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব অবশ্য সরকারের বিবেচনায় আছে। তবে আপাতত চালু ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস খোলা থাকবে।
জ্বালানি সংকটের মুখে সরকারের ভাবনা চিন্তার মধ্যে সরকারি অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। প্রস্তাব হল দু'দিন কর্মচারীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। বাকি তিন দিন অফিস খোলা থাকবে। বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার।
বুধবার রাতে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছিল ৫ এপ্রিল থেকে সপ্তাহের দু'দিন ওয়ার্ক ফর্ম চালু করা হবে। আরও জানা গিয়েছিল যে তিন দিন সরকারি দফতর খোলা থাকবে সেই দিনগুলি অফিস শুরু হবে সকাল আটটায়। বন্ধ হবে বিকাল চারটায়। দিনের আলোতে অফিসের কাজ সারতেই এই নির্দেশিকা। তবে হাসপাতাল সহ জরুরি পরিষেবাগুলিতে এই নির্দেশিকা বলবৎ হবে না। বেশি রাতে জানা যায় এইসব বিষয় সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনই দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে তা চালু করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে দ্য ওয়াল-এ জানিয়ে দেওয়া হবে। স্কুল থেকে যাবতীয় শিক্ষাঙ্গনে ভার্চুয়াল ক্লাস শুরুর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে সরকারি মহলে।
সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বর্তমান সরকার যে ভাবনা চিন্তা করছে তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কিছু সিদ্ধান্তে। সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দৃষ্টান্ত তিনি নিজের দফতর থেকে শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বহুবাতি জ্বালানো বন্ধ করে দিয়েছেন তারেক রহমান। বন্ধ করে দিয়েছেন একাধিক এসি মেশিন। এরপর তিনি কর্মচারীদের অনুরোধ করেন বিদ্যুৎ যথাসম্ভব কম খরচ করতে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে তিনি যে দিনের আলোয় অফিসের কাজ শেষ করার পথে এগোচ্ছেন তার আভাস মিলেছিল মঙ্গলবার দুপুরে। প্রধানমন্ত্রী আচমকা কয়েকটি দফতরে গিয়ে জানালা খুলে দেন। দেখা যায় সূর্যের আলোয় কাজ করা সম্ভব।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত শুরুর পর বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটে সূত্রপাত। সে দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি চলে জ্বালানি তেলে। আবার বিদ্যুতের বিপুল চাহিদা রয়েছে সার উৎপাদনকারী কারখানাগুলিতেও। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা কমানো ছাড়া এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। সেই কারণেই ওয়াক ফ্রম হোম এবং অফিসের কাজের সময় পরিবর্তন করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।