কলকাতায় বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে কূটনীতিক, রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি। উপ-হাইকমিশনারের ভাষণে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবদান এবং ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের বার্তা তুলে ধরা হয়।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 1 April 2026 22:30
.দ্য ওয়াল ব্যুরো: কূটনীতিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সরকারি আধিকারিক এবং শিক্ষাবিদসহ সুশীল সমাজের বিশিষ্টজনের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কলকাতায় উদযাপিত হল বাংলাদেশের ৫৬ তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান। ২৬ মার্চ ছিল সে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা জোরদার করতে এবার কলকাতার নাগরিক সমাজের যোগদান ছিল নজরকাড়ার মতো।
কলকাতায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার সিকদার মহম্মদ আশরাফুর রহমান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন যা জাতিকে সংঘবদ্ধ করে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দিকনির্দেশনা দেয়। বাংলাদেশের জনগণের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়, বলেন তিনি।তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ভারতবাসী, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের ভ্রাতৃপ্রতীম সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ ঘটে।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বিদেশ নীতির উল্লেখ করে তিনি বলেন শহিদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রথমে রেখে প্রতিবেশী দেশ ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে সাফল্য লাভ করেন। তাঁর এই বিদেশ নীতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাফল্যের সঙ্গে অনুসরণ করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষে শহিদ জিয়ার বিদেশ নীতিতে অবিচল রয়েছেন বলে ভারপ্রাপ্ত উপ-হা্ইকমিশনার মন্তব্য করেন।
ভারপ্রাপ্ত উপ-হা্ইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল জনকল্যাণমূলক উদ্যোগসমূহের উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই সকল উদ্যোগের ফলে ‘স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ’ উপলব্ধি করা শুরু করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ‘সাধারণ মানুষের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কিছু ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভারপ্রাপ্ত উপহার কমিশনার বলেন
বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের আলোকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সমৃদ্ধির স্বার্থে ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী, পারস্পরিক সম্মান ও উন্নয়নের অংশীদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিঠির অংশবিশেষ তিনি পাঠ করে শোনান।
ভারপ্রাপ্ত উপ-হা্ইকমিশনার বাংলাদেশ ও ভারতের সুদৃঢ় বন্ধুত্বের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুণ কুমার রায়, তিনি বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগের উল্লেখ ও দুই দেশের বন্ধুপ্রতীম সম্পর্কের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।