ট্রাম্প আরও জানান, সামরিক অভিযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সহায়তা করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 2 March 2026 21:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযান “খুব ভালভাবে এগোচ্ছে” (US strikes on Iran)। তবে এর পরেই তিনি সতর্ক করে বলেন, “সবচেয়ে বড় আক্রমণের ঢেউ এখনও আসেনি।”
সোমবার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ “অত্যন্ত শক্তিশালী”। একইসঙ্গে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভিতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও জানান, সামরিক অভিযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সহায়তা করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “কে উত্তরসূরি হবেন, তা আমি জানি না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কিছু ভাল প্রার্থী রয়েছে”, তবে তাদের নাম প্রকাশ্যে বলতে চাননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ ইরানের প্রশাসন পরিচালনা করছে। চূড়ান্তভাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে অ্যাসেম্বল অফ এক্সপার্টস।
রবিবার বিকেলে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি নিহত সেনাদের “দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী প্রকৃত দেশপ্রেমিক” বলে আখ্যা দেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “আমাদের এই ন্যায্য অভিযান জারি থাকবে এবং তাঁদের এই মৃত্যুর বদলা নেওয়া হবে।” ট্রাম্প টেলিফোনে ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, এই সংঘাত অন্তত “চার সপ্তাহ” চলতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর ইরান ফুঁসছে। তারা বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালাচ্ছে। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড হুমকি দিয়েছে, তারা ইতিহাসের “সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ” চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার লক্ষ্য হবে ইজরায়েলি এবং আমেরিকান সামরিক স্থাপনা।
সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই ট্রাম্প আরব দুনিয়ায় গত কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তম মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিলেন। মোতায়েন করা হয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মতো বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীগুলি। একদিকে ইরানের বদলার হুমকি, অন্যদিকে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের চাপে আরবদুনিয়ার পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ।