নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প? হোয়াইট হাউস তাঁর ছবি প্রকাশ করতেই জল্পনা তুঙ্গে। ট্রাম্প বললেন, 'এসব রুবিও বলতে পারবে।'

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 9 October 2025 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতটা বড় সংঘাত থেমেছে তাঁর হস্তক্ষেপে। এবার নোবেল পিস প্রাইস পেতে চলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! নোবেল প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের তরফে এবিষয়ে কিছু জানানো না হলেও হোয়াইট হাউসে জল্পনা তুঙ্গে। তারা ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের নতুন নামকরণ করে ফেলেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁকে ডাকা হচ্ছে 'দ্য পিস প্রেসিডেন্ট' হিসেবে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস নামকরণ করলেও ট্রাম্পের অবশ্য আশঙ্কা, ‘কোনও না কোনও কারণ’ খুঁজে বের করে নোবেল কমিটি হয়তো তাঁকে পুরস্কার দেবে না।
যদিও বার বার ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর প্রশাসন ইতিমধ্যে ‘সাতটি বৈশ্বিক সংঘাত’ মিটিয়েছে এবং অষ্টমটি নিষ্পত্তির কাছাকাছি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, 'আমার কোনও ধারণা নেই (নোবেল পাব কি না)... মার্কো রুবিও বলতে পারবে, আমরা সাতটা যুদ্ধ মিটিয়েছি। অষ্টমটার কাছাকাছি আছি। রাশিয়া পরিস্থিতিও মিটিয়ে ফেলব বলে মনে হচ্ছে। ইতিহাসে কেউ এত কিছু করতে পারেনি।'
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইজরায়েল এবং হামাস অবশেষে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে পৌঁছেছে। মিশরে টানা কয়েক দিনের পরোক্ষ আলোচনার পর এই চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউসের তরফে তাঁর একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যার ক্যাপশন দেওয়া হয়, দ্য পিস প্রেসিডেন্ট'।

তবে পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের সন্দেহ রয়েছেই। তাঁর কথায়, 'অনেক দেশ আমাকে নোবেলের জন্য মনোনিত করেছে, কিন্তু হয়তো নোবেল কমিটি কোনও কারণ দেখিয়ে সেটা আমায় দেবে না।' তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বহুবার শান্তি চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছেন, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান, ইজরায়েল-হামাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রে। এমনকি, তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সময়ও তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত জেতেননি।
নোবেল মনোনয়নের মধ্যে অন্যতম ছিল পাকিস্তান। চলতি বছরের ২০ জুন ইসলামাবাদ ঘোষণা করে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্পের ‘গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা’র জন্য তাঁর নাম তারা নোবেল শান্তি পুরস্কারে সুপারিশ করবে।
তবে ভারত সে দাবি মানেনি। দিল্লির বক্তব্য, সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয় পাকিস্তানের নিজস্ব উদ্যোগে, যখন পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO) ফোন করে ভারতীয় সেনাপ্রধানকে অনুরোধ করেছিলেন যুদ্ধ থামানোর জন্য। ভারতের সাফ দাবি, ট্রাম্প নয়, আসলে পাকিস্তান তখন ভারতের পাল্টা হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল, তারাই সংঘর্ষবিরতি চাইতে বাধ্য হয়।