মিশরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ধাপে হামাস সব ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেবে এবং ইজরায়েল গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
শেষ আপডেট: 9 October 2025 07:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানের পথে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করেছেন, ইজরায়েল (Israel) ও হামাস (Hamas) তাঁর প্রস্তাবিত গাজা শান্তি চুক্তির (Gaza Peace Plan) প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প একে আখ্যা দিয়েছেন 'ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন চুক্তি' হিসেবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ইজরায়েল ও হামাস উভয়েই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সই করেছে। এর মানে, খুব শিগগিরই সব বন্দিকে (Hostages) মুক্তি দেওয়া হবে, আর ইজরায়েল তাদের সেনাবাহিনী (IDF) প্রত্যাহার করবে — এক শক্তিশালী, স্থায়ী ও ন্যায্য শান্তিচুক্তির এটাই প্রথম পদক্ষেপ।” এই প্রেক্ষিতে তিনি কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
মিশরে (Egypt) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের (First Phase) সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ধাপে হামাস সব ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেবে এবং ইজরায়েল গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ঈশ্বরের সাহায্যে আমরা আমাদের সকল বন্দিকে ঘরে ফিরিয়ে আনব।” এদিকে এই চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি এই সপ্তাহের শেষ দিকে মিশরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। হয়তো গাজাতেও যেতে পারেন!
হামাস প্রথম ধাপে যাদের মুক্তি চায়, সেই বন্দিদের তালিকা ইজরায়েলের কাছে জমা দিয়েছে। বিনিময়ে তারা মুক্তি দেবে ৪৭ জন ইজরায়েলি বন্দিকে - জীবিত ও মৃত উভয়কেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণের সময় ওই ব্যক্তিরা গাজায় বন্দি হয়েছিলেন।
মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। হামাসের সঙ্গে ইসলামিক জিহাদ ও পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (PFLP)-এর নেতারাও আলোচনায় যোগ দেন।
দু'বছর আগে হামাসের আকস্মিক হামলায় ইজরায়েলে নিহত হন ১ হাজার ২১৯ জন মানুষ বলে দাবি। তখন ২৫১ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় গাজায়, যাদের মধ্যে ৪৭ জন এখনও বন্দি — অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইজরায়েলি সেনা।
এদিকে গাজায় ইজরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রক। জাতিসংঘও ওই পরিসংখ্যানকে 'বিশ্বাসযোগ্য' বলে উল্লেখ করেছে। মৃতদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।
এই মুহূর্তে গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত দুর্ভিক্ষও ছড়িয়ে পড়েছে, আর ইজরায়েলি বন্দিদের পরিবারের চাপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল ক্রমশ যুদ্ধের অবসান চায়। তাই বিশ্ব এখন এই শান্তি চুক্তির দিকেই তাকিয়ে।