রেথিয়ন সংস্থার তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৪১.৬ মিলিয়ন ডলার বাড়তি বরাদ্দের ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন, যার ফলে পুরনো চুক্তির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ২.৫১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

শাহবাজ শরিফ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 8 October 2025 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সিঁদুর অভিযানে (Operation Sindoor) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল পাকিস্তানের। একাধিক বিমানঘাঁটি, যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। কার্যত এরপরেই বেশি করে আমেরিকার (USA) ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ (Islamabad)। ইতিমধ্যে একাধিকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে বৈঠকও করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif), সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Asim Munir)। সেই বৈঠকই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা নিল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারতের পড়শি দেশকে সাহায্য করতে চলেছে আমেরিকা।
পাকিস্তানকে এআইএম–১২০ ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল’ (AMRAAM) সরবরাহ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার (আগের ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স) এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রেথিয়ন সংস্থার তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৪১.৬ মিলিয়ন ডলার বাড়তি বরাদ্দের ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন, যার ফলে পুরনো চুক্তির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ২.৫১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে পাকিস্তান ঠিক কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, তা জানানো হয়নি।
এই নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০৩০ সালের মে মাস।
পাকিস্তানকে (Pakistan) এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সামরিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, পাকিস্তান বায়ুসেনার এফ-১৬ বহরে বড়সড় আধুনিকীকরণ আসছে কিনা? কারণ, এই এএমআরএএএম ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের মিগ-২১ নামানোর সময়ে পাকিস্তান একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল বলে দাবি করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এবার যে AIM-120C8 মডেল পাচ্ছে, সেটি মার্কিন বিমানবাহিনীর সর্বাধুনিক AIM-120D মডেলের রফতানি সংস্করণ। বর্তমানে পাকিস্তানের হাতে রয়েছে পুরনো C5 সংস্করণ, যা ২০১০ সালে ব্লক-৫২ এফ-১৬ বিমানের সঙ্গে কেনা হয়েছিল।
ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে উষ্ণ হয়ে উঠেছে। গত মাসে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এর আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের একান্ত সাক্ষাৎ নিয়েও সাড়া পড়ে যায়। জুলাই মাসে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধানও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে সফর করেন।
ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে মে মাসে সংঘাতের পর পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বলে দাবি করেছিল ইসলামাবাদ। এমনকী তাঁর নাম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও প্রস্তাব করেছিল পাকিস্তান সরকার। তবে দিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি হয়েছে দুই দেশের সেনা কর্মকর্তাদের সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতেই।