এই চাপ কি সত্যিই কিউবায় রাজনৈতিক ভাঙন ধরাবে, না কি দীর্ঘ অবরোধের ইতিহাসের মতো আবারও টিকে যাবে হাভানা?
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 12 January 2026 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার নাটকীয় পালাবদলের পর এ বার কিউবার (Cuba) গলায় কূটনৈতিক ফাঁস আরও আঁটসাঁট করল ওয়াশিংটন (Washington)।
রবিবার সাফ বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), আমেরিকার সঙ্গে ‘চুক্তি’ করো, নইলে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে হবে কিউবাকে। ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, “কিউবায় আর কোনও তেল বা টাকা যাবে না, শূন্য! দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করা ভাল।”
এই হুঁশিয়ারির পটভূমিতে রয়েছে চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতার। ওই ঘটনার জেরে কার্যত ছিন্ন হয়েছে হাভানা-কারাকাসের দীর্ঘদিনের জোট! যা কিউবার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা ছিল। এত দিন কিউবার তেলের ঘাটতির প্রায় অর্ধেকই মেটাত ভেনেজুয়েলা।
চুক্তির শর্ত কী, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার প্রভাব বাড়ানোর অভিযানে এটি বড়সড় কৌশলগত চাপ। ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত তেল ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করেছে আমেরিকা। এর ফলে এমনিতেই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জর্জরিত কিউবায় অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়ছে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভাষা এখানেই থামেনি। তিনি একটি পোস্ট শেয়ার করে মন্তব্য করেন, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ‘কিউবার প্রেসিডেন্ট’ হতে পারেন, “শুনতে ভালোই লাগছে!” মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক মহলে শোরগোল।
হাভানা অবশ্য পাল্টা কড়া সুরে জবাব দিয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল বলেন, “কিউবা স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না।” তিনি যোগ করেন, সংঘাত চায় না কিউবা, কিন্তু মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত প্রস্তুত। বিদেশমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ আমেরিকার আচরণকে ‘অপরাধমূলক’ বলে আক্রমণ করেন এবং জ্বালানি আমদানির অধিকার কিউবার রয়েছে বলে জানান।
ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই মাটিতে টের পাওয়া যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতা, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্দশা চরমে। ২০২০ থেকে ২০২৪— এই চার বছরে প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি। ১৬ বছরের ছাত্রী আমান্ডা গোমেজের কথায়, “দেশ ছাড়তে চাই না, এমন বললে মিথ্যে বলা হবে।”
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সম্পূর্ণ তেল সরবরাহ বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এই চাপ কি সত্যিই কিউবায় রাজনৈতিক ভাঙন ধরাবে, না কি দীর্ঘ অবরোধের ইতিহাসের মতো আবারও টিকে যাবে হাভানা? সময়েই মিলবে সদুত্তর।