Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা? ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই খামেনেই প্রশাসন জানাল, তারাও চুপ করে থাকবে না

ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন কার্যত শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা? ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই খামেনেই প্রশাসন জানাল, তারাও চুপ করে থাকবে না

ছবি সংগৃহীত

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 11 January 2026 15:49

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে সরকারবিরোধী (Iran Protest) আন্দোলন তীব্রতর হওয়ায় সে দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের পথ কি খুলে রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)? এমনই জল্পনা জোরালো হচ্ছে ওয়াশিংটনে (Washington)। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পকে নতুন সামরিক বিকল্পের বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। একাধিক মার্কিন আধিকারিকের বক্তব্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সীমিত আঘাতের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, আমেরিকাকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। সেখানকার  পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা হামলা চালালে ফল ভুগতে হবে ইজরায়েলকে! সে দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাবে ইরান।

ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন কার্যত শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি, আর্থিক সঙ্কট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভ থামেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২,৩০০-র বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) কোনও আপসের ইঙ্গিত দেননি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবর অনুযায়ী, তিনি আরও কঠোর দমননীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোভাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ‘ঈশ্বরের শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে— যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এমনকি আন্দোলনে সহায়তা করলেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

বিক্ষোভে ফের শোনা যাচ্ছে ইরানের প্রাক্তন সম্রাট শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগান। তাঁর পুত্র রেজা পাহলভিও প্রকাশ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন।

ইরানের অস্থিরতার প্রভাব ছড়িয়েছে দেশের বাইরেও। লন্ডনে ইরানি দূতাবাসে এক বিক্ষোভকারী উঠে পুরনো ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ পতাকা টাঙান। প্যারিস, বার্লিন-সহ ইউরোপের বিভিন্ন শহর এবং ওয়াশিংটনেও বিক্ষোভ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ফের ইরানের শাসকদের সতর্ক করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যদিও স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রশ্ন নেই। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ওরা বড় বিপদে আছে। আমরা আঘাত করব এমন জায়গায়, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা পাবে।”

একই সঙ্গে তিনি আশাও প্রকাশ করেন, সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, “ইরান হয়তো আগে কখনও এতটা স্বাধীনতার কাছাকাছি আসেনি। আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত।” মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় ছিল ইরান, সিরিয়া ও গাজা পরিস্থিতি।

তবে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও সতর্কতা রয়েছে। একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্তার মতে, যেকোনও হামলায় এমন ভারসাম্য রাখতে হবে, যাতে ইরানের সাধারণ মানুষ সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে না পড়ে এবং মার্কিন ঘাঁটি বা কূটনৈতিক দফতরে পাল্টা হামলার ঝুঁকি না বাড়ে।

উল্লেখ্য, মাত্র ছ’মাস আগেই ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে ইরানের তিনটি পরমাণু ঘাঁটিতে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই ঘটনার পর ফের উত্তাল পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে এখন গোটা বিশ্ব। ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী বিক্ষোভ দমনে কতটা দূর যেতে প্রস্তুত, তার উপরই।


```