সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগের শুল্কনীতি বাতিল করলেও, ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই রায় তাঁর হাতে আরও শক্তিশালী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা তুলে দিয়েছে।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 24 February 2026 08:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুল্কনীতি নিয়ে নিজের দেশের সুপ্রিম কোর্টে (US Supreme Court) ধাক্কা খেলেও দমে যাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আর তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত-পদক্ষেপে। আদালতের নির্দেশের দিনই সব দেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন তিনি। এবার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President)।
কোনও রাখঢাক না রেখেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ পোস্ট করে ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, 'কোনও দেশ (US trade partners) যদি সুপ্রিম কোর্টের 'হাস্যকর' সিদ্ধান্তকে (US Supreme Court ruling) কেন্দ্র করে আমেরিকার সঙ্গে খেলতে চায়, বিশেষ করে যারা বহু বছর ধরে আমেরিকাকে ঠকিয়ে এসেছে, তাঁদের উপর আগের চেয়ে অনেক বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে।' তাই বেশি কিছু না ভেবে সকলকে সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগের শুল্কনীতি (Donald Trump tariffs) বাতিল করলেও, ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই রায় তাঁর হাতে আরও শক্তিশালী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। তাঁর কথায়, তিনি এখন আরও শক্তিশালী এবং অপ্রিয় উপায়ে আইন প্রয়োগ করতে পারবেন।
এছাড়া, আগামী দিনে যে আমেরিকা বাণিজ্যসঙ্গীদের উপর নতুন 'লাইসেন্স ফি' আরোপ করার কথা ভাবছে, তাও স্পষ্ট হয়েছে ট্রাম্পের বক্তব্যে।
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার (US Supreme Court ruling) পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রথমে সমস্ত আমদানির উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন। পরে শনিবার বলেন, আইন অনুযায়ী ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে এবং তিনি সেই সর্বোচ্চ সীমার পুরোটা প্রয়োগ করবেন। এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য (150-day period) ধার্য করা হবে। এই সময়ের মধ্যে তাঁর প্রশাসন নতুন নিয়ম ও আইনের সঙ্গে মিলিয়ে শুল্ক নীতি তৈরি করবে।
ওইদিন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) লিখেছিলেন, “দশকের পর দশক বহু দেশ আমেরিকাকে ঠকিয়েছে। আমদানির ক্ষেত্রে আমি বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে দিচ্ছি।”
এই ঘোষণার ফলে আমেরিকায় বিভিন্ন পণ্য আমদানির খরচ বাড়তে পারে, যার প্রভাব মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহকদের ওপরও পড়তে পারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, চিন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
এদিকে, আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা একাধিক আমদানি শুল্ক আদায় মঙ্গলবার ভোর থেকে বন্ধ করছে মার্কিন প্রশাসন।
উল্লেখ্য, আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট তার ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি আইনের অপব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা সংবিধানসিদ্ধ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
এই মামলাটি দায়ের করেছিল একাধিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও ১২টি রাজ্য, যাদের অধিকাংশই ডেমোক্র্যাট শাসিত। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প একতরফাভাবে এই আইন ব্যবহার করে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন, যা নজিরবিহীন।