মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক মঙ্গলবার রাত বারোটা এক মিনিট থেকে আর নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সব শুল্ক কোড পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।

আদালতের রায়ের তিন দিনেরও বেশি সময় পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
শেষ আপডেট: 23 February 2026 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা একাধিক আমদানি শুল্ক আদায় মঙ্গলবার ভোর থেকে বন্ধ করছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক মঙ্গলবার রাত বারোটা এক মিনিট থেকে আর নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সব শুল্ক কোড পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।
আদালতের রায়ের তিন দিনেরও বেশি সময় পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। তবে এই সময়ের মধ্যে কেন শুল্ক আদায় চলেছে এবং আমদানিকারকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি দফতর। এই স্থগিতাদেশ কেবল জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারায় এবং অন্যায্য বাণিজ্য সংক্রান্ত ধারায় আরোপিত অন্যান্য শুল্ক এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সব দেশের আমদানির উপর নতুন হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। প্রথমে দশ শতাংশ বলা হলেও পরে তা বাড়িয়ে পনেরো শতাংশ করা হয়। নতুন শুল্ক বাণিজ্য আইনের আরেকটি ধারার আওতায় আনা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি বজায় রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। অর্থনীতিবিদদের অনুমান, আদালতের এই রায়ের ফলে একশো পঁচাত্তর বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক রাজস্ব ফেরতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ বাতিল হওয়া শুল্ক থেকে প্রতিদিন পাঁচশো মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় হচ্ছিল।
ছয়–তিন সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে সর্বোচ্চ আদালত জানায়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে বিস্তৃত আমদানি শুল্ক চাপানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এই রায়ের ফলে এশিয়ার একাধিক প্রধান রফতানিমুখী অর্থনীতির উপর আরোপিত শুল্কও বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং তাইওয়ান। বিশ্ব উৎপাদন ও প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।