Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

মেক্সিকোর রক্তে জড়িয়ে রয়েছে মাদক সাম্রাজ্য, পাচার, লালসা, হিংসার শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চক্র, অপরিসীম হিংসা, রক্তক্ষয়, অর্থপাচার ও দুর্নীতি। এই অন্ধকার সাম্রাজ্যের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে উনিশ শতকের শেষভাগে। 

মেক্সিকোর রক্তে জড়িয়ে রয়েছে মাদক সাম্রাজ্য, পাচার, লালসা, হিংসার শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস

শুরুর দিকে আফিম ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আমদানি হতো। ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 23 February 2026 12:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাচীন সভ্যতার দেশ মেক্সিকোর পরিচয়ের সঙ্গে আজ আরেকটি কাল ধাব্বা লেগে রয়েছে। আর তা হল মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চক্র, অপরিসীম হিংসা, রক্তক্ষয়, অর্থপাচার ও দুর্নীতি। এই অন্ধকার সাম্রাজ্যের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে উনিশ শতকের শেষভাগে। সেই সময় মেক্সিকোর উত্তর সীমান্তের প্রতিবেশী আমেরিকা ছিল চিনা পরিযায়ীদের অন্যতম গন্তব্য। কিন্তু ১৮৮২ সালের চিনা বর্জন আইন কার্যকর হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক চিনা শ্রমিক আর আমেরিকায় ঢুকতে পারেননি। তাঁদের অনেকেই স্থায়ীভাবে বসতি গড়েন মেক্সিকোর সিনালোয়া, সোনোরা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। সীমান্তবর্তী এই অভিবাসীরাই এলাকায় আফিমের প্রচলন ঘটান।

শুরুর দিকে আফিম ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আমদানি হতো। আর উনিশ শতকের শেষ থেকেই মেক্সিকোয় গাঁজার চাষ শুরু হয়েছিল। বিশ শতকের গোড়া থেকে আফিম ও গাঁজা, দু’টিই মেক্সিকোয় উৎপাদিত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ১৯০৯ সালের আফিম নিষেধাজ্ঞা আইন এবং ১৯১৪ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর হওয়ার পর চোরাপথে মাদক পাচার আরও বেড়ে যায়। মেক্সিকোও পরে আমদানি নিষিদ্ধ করে এবং ১৯২৩ সালে সাধারণভাবে মাদক আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ১৯২৭ সালে রফতানিও নিষিদ্ধ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সীমান্তে অভিযান বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে।

তবু মাদক রপ্তানি বন্ধ হয়নি। বরং দুই ও তিনের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ হওয়া মোট আফিমের প্রায় পনেরো শতাংশই আসত মেক্সিকো থেকে। সাতের দশকে দুই দেশের মধ্যে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান জোরদার হয়। সামরিক শক্তি ও আকাশপথে বিষাক্ত রাসায়নিক ছিটিয়ে চাষ নষ্ট করার কৌশল নেওয়া হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মেক্সিকোর মাদক কিছুটা কমে। কিন্তু এই অভিযানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ। মানবাধিকার লঙ্ঘন, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অপরাধজগতের পুনর্গঠন। ছোট পাচারকারীরা হারিয়ে গেলেও বড় সংগঠনগুলি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কোকেন এনে মেক্সিকোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের নতুন রুট তৈরি করে।

রাজনৈতিক পালাবদলও বড় প্রভাব ফেলে। ১৯২৯ সাল থেকে দীর্ঘ একাত্তর বছর ক্ষমতায় থাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিপ্লবী দল সরকারের সঙ্গে কার্টেলগুলির অঘোষিত বোঝাপড়া বজায় রেখেছিল। সীমিত তদন্ত ও নিয়ন্ত্রিত সহনশীলতার নীতি হিংসা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখত।২০০০ সালে ভিসেন্তে ফক্স ক্ষমতায় আসেন। প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণের মাধ্যমে তিনি কার্টেল ও সরকারের যোগসূত্র ছিন্ন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার ফল উল্টো হয়— হিংসা আরও বাড়ে, আর সরকার নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে সেনা নামায়।

২০০৬ সালে পুরনো দল পুনর্নির্বাচিত হয়ে ফেলিপে ক্যালদেরন প্রেসিডেন্ট হন। তিনি মাদকবিরোধী অভিযান আরও তীব্র করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেন। ২০১২ সালে আবার বিপ্লবী দল ক্ষমতায় ফিরে এলে প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতো সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে জাতীয় জেন্ডারমেরি গঠনের কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে সেনা প্রত্যাহার হয়নি; বরং ২০১৩ সালে মিচোয়াকান প্রদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়।

২০১৮ সালের পর থেকে প্রতি বছর তিরিশ হাজারের বেশি মানুষ খুন, অপহরণ বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার শিকার হয়েছেন। গ্যাং ও কার্টেলগুলিই মূলত দায়ী হলেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই হিংস্রতার জেরে বহু মানুষ উত্তর সীমান্তে পাড়ি দেন। একই সঙ্গে কার্টেলগুলির পাচার করা মাদক যুক্তরাষ্ট্রে অতিমাত্রার মাদকসেবনজনিত মৃত্যুর সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

২০২২ সালের অগস্টে মেক্সিকোর কংগ্রেস একটি সংস্কার পাশ করে, যার ফলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে কার্টেলগুলি ভারী অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে নিজেদের দখলদারি বিস্তৃত করছে। সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা, অপহরণ ও খুনের ঘটনা অব্যাহত। ২০২৩ সালের মার্চে চার মার্কিন নাগরিক অপহৃত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মেক্সিকোয় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তাব দেন। প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর সেই প্রস্তাবকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত এক হিসেব অনুযায়ী মেক্সিকোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড কার্টেলদের নিয়ন্ত্রণে। যুক্তরাষ্ট্রের মাদক প্রয়োগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিনালোয়া ও জালিস্কো কার্টেল যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হওয়া অধিকাংশ মেথামফেটামিন, কোকেন, হেরোইন, গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকের জোগানদাতা। বিশেষ করে প্রাণঘাতী ফেন্টানিল এখন সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করছে বিপুল পরিমাণে, যা যুক্তরাষ্ট্রে মাদকজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। শতাব্দী পেরিয়ে মেক্সিকোর মাদক ইতিহাস তাই কেবল অপরাধকাহিনি নয়। এটি রাজনৈতিক সমীকরণ, সীমান্ত রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক চাপে গড়ে ওঠা এক জটিল রক্তাক্ত বাস্তব।


```