৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেওয়া রায়ে, প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস জানান, ১৯৭৭ সালের যে আইন ব্যবহার করে ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 21 February 2026 22:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের দেশের সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court US) শুল্ক-যুদ্ধে হেরেও থেমে নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US president Donald Trump)। আদালতের নির্দেশের পরও আমেরিকায় আমদানি করা সমস্ত পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা করলেন তিনি (Donald Trump)। আদালতের রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, "এতদিন বহু দেশ আমেরিকাকে ঠকিয়েছে, তাই এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।" শুল্ক বৃদ্ধির এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
শনিবার ট্রাম্প জানান, বিদেশি পণ্যের উপর অস্থায়ী শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court US) অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার আইনের ভিত্তিতে তাঁর ‘স্বাক্ষরিত’ শুল্ক নীতি কার্যকর নয় বলে রায় দেয়। সেই রায়েই স্পষ্ট হয় যে, ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। এরপরই ট্রাম্প আরও কঠোর পথে হাঁটলেন।
শুক্রবারই রায় ঘোষণার পর তিনি প্রথমে সমস্ত আমদানির উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের (US imports from all countries from 10% to 15%) নির্দেশ দেন। পরে শনিবার বলেন, আইন অনুযায়ী ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে এবং তিনি সেই সর্বোচ্চ সীমার পুরোটা প্রয়োগ করবেন। এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য (150-day period) ধার্য করা হবে। এই সময়ের মধ্যে তাঁর প্রশাসন নতুন নিয়ম ও আইনের সঙ্গে মিলিয়ে শুল্ক নীতি তৈরি করবে।
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) লিখেছেন, “দশকের পর দশক বহু দেশ আমেরিকাকে ঠকিয়েছে। আমদানির ক্ষেত্রে আমি বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে দিচ্ছি।”
এই ঘোষণার ফলে আমেরিকায় বিভিন্ন পণ্য আমদানির খরচ বাড়তে পারে, যার প্রভাব মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহকদের ওপরও পড়তে পারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, চিন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
এখন দেখার বিষয়, ১৫০ দিনের এই অস্থায়ী শুল্ক প্রক্রিয়া আদালত ও কংগ্রেসে টিকে থাকে কি না। কারণ, বেশ কিছু আইনজটিলতা এখনও রয়েই গেছে। তবে বলা যায়, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন বাণিজ্য নীতিকে আরও আগ্রাসী পথে নিয়ে গেল, যা আগামী দিনগুলিতে বিশ্ববাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট তার ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি আইনের অপব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা সংবিধানসিদ্ধ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
৬-৩ রায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা টানে আদালত
৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেওয়া রায়ে, প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস জানান, ১৯৭৭ সালের যে আইন ব্যবহার করে ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আদালত নিম্ন আদালতের রায়ও বহাল রাখে।
বিচারপতি রবার্টস তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলেন, প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে “কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন” দেখাতে হবে। তাঁর কথায়, “এই অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদনের দিকে ইঙ্গিত করতে হবে, কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি।”
আইনি লড়াই ও সংবিধানিক প্রশ্ন
এই মামলাটি দায়ের করেছিল একাধিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও ১২টি রাজ্য, যাদের অধিকাংশই ডেমোক্র্যাট শাসিত। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প একতরফাভাবে এই আইন ব্যবহার করে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন, যা নজিরবিহীন।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের। কিন্তু ট্রাম্প IEEPA আইনের আশ্রয় নিয়ে প্রায় সমস্ত বাণিজ্য অংশীদার দেশের উপর শুল্ক চাপান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই।
এই রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে ছিলেন ট্রাম্প-নিযুক্ত বিচারপতি নিল গরসাচ ও এমি কনি ব্যারেট-সহ তিন বিচারপতি। ভিন্নমত পোষণ করেন ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানগ।