শুধু রাজনৈতিক চাপ নয়, ব্যবসায়ীরাও অর্থ ফেরতের লাইনে। প্রভাবশালী পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের হিসেব, মোট ফেরতের অঙ্ক ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ কার হাতে যাবে, তা স্পষ্ট নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 21 February 2026 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘোষিত জরুরি আমদানি শুল্ক বাতিল করে বড় ধাক্কা দিয়েছে প্রশাসনকে (US Supreme Court)। রায়ে স্পষ্ট, ওই শুল্ক আর আইনসম্মত নয়। কিন্তু তাতে নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে - এতদিনে সরকার যে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার আদায় করেছে, সেই বিপুল অর্থের (US Tariff) কী হবে?
ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিট্জকার রায়ের পরেই হোয়াইট হাউসে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের দাবি পাঠান। তাঁর অভিযোগ, এই শুল্ক কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, মিত্রদেশগুলিকে বিরক্ত করেছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ পরিবারকে চাপে ফেলেছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, গত বছর গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে প্রায় ১,৭০০ ডলার অতিরিক্ত বহন করতে হয়েছে। সেই অঙ্ক ধরেই ইলিনয়ের প্রতিটি পরিবারের জন্য অর্থ ফেরতের দাবি তোলেন তিনি।
তবে শুধু রাজনৈতিক চাপ নয়, ব্যবসায়ীরাও অর্থ ফেরতের লাইনে। প্রভাবশালী পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের হিসেব, মোট ফেরতের অঙ্ক ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ কার হাতে যাবে, তা স্পষ্ট নয়। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছনোর সম্ভাবনা ক্ষীণ; বরং আমদানিকারক সংস্থাগুলিই ফেরত পেতে পারে।
নিজেও স্বীকার করেছেন ট্রাম্প, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ে গড়াতে পারে। তাঁর মতে, দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত আদালতেই কাটতে পারে বিষয়টি। অথচ গত বছর তিনি বলেছিলেন, বিপুল রাজস্ব আসায় আমেরিকাবাসী ‘ছোট রেয়াত’ পেতে পারেন। সেই আশায় এখন ভাঁটা।
রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ মন্তব্য করেছেন, অর্থ ফেরতের পদ্ধতি নিয়ে আদালত কিছু বলেনি। বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের আগের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে তিনি সতর্ক করেছেন, ফেরত প্রক্রিয়া জটিল ও বিশৃঙ্খল হতে পারে।
মার্কিন শুল্ক দফতরের নথি অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১৩৩ বিলিয়ন ডলার আদায় হয়েছে। যদিও ভুল প্রমাণিত হলে শুল্ক ফেরতের একটি পদ্ধতি রয়েছে, এত বিপুল অঙ্ক একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতা দফতরের নেই। অতীতে নব্বইয়ের দশকে রফতানির উপর ধার্য এক বন্দর রক্ষণাবেক্ষণ শুল্ক অসাংবিধানিক ঘোষিত হলে আদালত সংস্থাগুলিকে আবেদন করে অর্থ ফেরত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল।
আইনজীবীদের মতে, শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকেরাই অর্থ ফেরত পেতে পারেন, যদিও পথ মসৃণ নয়। ইতিমধ্যে কস্টকো, রেভলন এবং বাম্বল বি ফুডসের মতো সংস্থাগুলি মামলা করেছে। সামনে আরও আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মুখ হয়ে উঠেছেন ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, প্রখ্যাত আইনজীবী নীল কাত্যাল (Neal Katyal)। প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সলিসিটার জেনারেল কাত্যাল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের উপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল। তাঁর যুক্তি ছিল, এই শুল্ক অন্যায্য ও অসাংবিধানিক কর ছাড়া আর কিছু নয়।
৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দেওয়া রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস স্পষ্ট করেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হলেও তা দিয়ে কর বা শুল্ক আরোপের অধিকার মেলে না। সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের।