মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থার আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত এমন এক রায়ে গড়াল, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) শুল্ক নীতিকে একধাক্কায় শুইয়ে দিয়েছে।
.jpeg.webp)
সবচেয়ে আগে যারা চ্যালেঞ্জ জানায়, তাদের মধ্যে ছিল শিক্ষামূলক খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থা Learning Resources।
শেষ আপডেট: 21 February 2026 10:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থার আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত এমন এক রায়ে গড়াল, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) শুল্ক নীতিকে একধাক্কায় শুইয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে, মার্কিন আমদানিকারকদের জন্য বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ফেরত পাওয়ার পথও খুলে দিতে পারে এই সিদ্ধান্ত। শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অতিরিক্ত শুল্ককে বাতিল করে দেয়। আমদানিকারক সংস্থা, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ধারাবাহিক মামলার জেরে এই সিদ্ধান্ত আসে। তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, জরুরি ক্ষমতার আইনের অপব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
সবচেয়ে আগে যারা চ্যালেঞ্জ জানায়, তাদের মধ্যে ছিল শিক্ষামূলক খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থা Learning Resources। সংস্থাটি তাদের অধিকাংশ পণ্য চিন থেকে আমদানি করে। শুল্ক ঘোষণার পরপরই গত এপ্রিলে তারা মামলা দায়ের করে। তাদের যুক্তি ছিল, এই অতিরিক্ত শুল্ক আমদানিনির্ভর ছোট ব্যবসাগুলিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সংস্থার সিইও রিক ওল্ডেনবার্গ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি একটু থেমে ভেবে দেখার সুযোগ। কী জরুরি, কী করা দরকার—সেটা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।” যদি এই রায়ের ফলে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে লার্নিং রিসোর্সেসসহ অন্যান্য আমদানিকারক সংস্থা শুল্ক বাবদ আদায় হওয়া বিলিয়ন ডলারের অংশ ফেরত পেতে পারে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে বা কবে এই রিফান্ড কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
ওল্ডেনবার্গের বক্তব্য, “ওরা জানে আমার কাছ থেকে কত নিয়েছে। এখন গিয়ার ঘুরিয়ে আমার টাকা ফেরত দিন।” তিনি আরও বলেন, “মার্কিন সরকার প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ কর ফেরত দেয়। কেউ চেক হাতে পেয়ে অবাক হয় না। সরকার জানে কীভাবে ফেরত দিতে হয়। এটা আমাদের টাকা— ফেরত দিন।” তাঁর দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক নয়, করসংক্রান্ত। “কিছু না করে বসে থাকার চেয়ে পদক্ষেপ নেওয়াই সহজ ছিল। এটা রাজনীতি নয়। সরকার আমাদের কাছে টাকা পায়,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, “দেশের যদি রাজস্ব দরকার হয়, তাহলে কংগ্রেসে খোলাখুলি বিতর্ক হোক।” রায়কে তিনি “সবার জন্য জয়” বলেও মন্তব্য করেন।
লার্নিং রিসোর্সেস এবং তাদের সহপ্রতিষ্ঠান hand2mind একটি বড় আমদানি-নির্ভর ইকোসিস্টেমের অংশ। ওল্ডেনবার্গ জানান, “গত বছর আমরা ব্যবসায় ডুবে গিয়েছি।” ২০২৫ সালে আমেরিকার চেম্বার অফ কমার্সের (United States Chamber of Commerce) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯৭ শতাংশ আমদানিকারকেরই ছোট ব্যবসা। তারা বছরে প্রায় ৮৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। প্রতিবেদনে শুল্ককে এসব সংস্থার টিকে থাকার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সংস্থাগুলি উৎপাদন আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু ওল্ডেনবার্গের মতে, বাস্তব এত সহজ নয়। “জরুরি পরিস্থিতির মতো হুট করে একটি দেশের সাপ্লাই চেইন সরিয়ে নেওয়া, যেন মাথার ওপর বোমা পড়ছে। এমন কাজের জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না,” বলেন তিনি। সংস্থাটির চিনে থাকা অংশীদার কারখানায় ৩০টিরও বেশি ভারী ইনজেকশন-মোল্ডিং মেশিন রয়েছে, প্রতিটির ওজন কয়েক টন। এগুলি দিয়ে গলিত প্লাস্টিক ছাঁচে ঢেলে খেলনা তৈরি হয়। এই যন্ত্রপাতি যুক্তরাষ্ট্রে সরাতে ডজনখানেক ফ্ল্যাটবেড ট্রাক ও ক্রেন লাগবে— যা ব্যয়সাপেক্ষ ও লজিস্টিকভাবে কঠিন।
তার ওপর, চিনের কারখানাটিতে রয়েছে খেলনা প্রস্তুতের নিরাপত্তার মানদণ্ডে অভ্যস্ত দক্ষ কর্মী। যুক্তরাষ্ট্রে সেই সক্ষমতা গড়ে তুলতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে বলে জানান ওল্ডেনবার্গ। তবে তিনি আশাবাদী, ইতিমধ্যে দেওয়া শুল্ক একসময় ফেরত আসবে। “অর্থ ফেরত পেলেই আমরা আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করব। আমরা আমাদের সংস্থাকে আগের মতো চালাতে চাই,” বলেন তিনি।
এপ্রিলের পর থেকে United States Court of International Trade-এ শুল্ক সংক্রান্ত ১,৮০০-রও বেশি মামলা দায়ের হয়েছে, যা ২০২৪ সালের গোটা বছরে দায়ের হওয়া মামলার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।