মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Ali Khamenei) এবং তাঁর উত্তরসুরী পুত্র মোজতবা খামেনেইকে খতম করার সামরিক বিকল্প রাখা হয়েছিল।

মোজতবা খামেনেইকে তাঁর পিতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হয়।
শেষ আপডেট: 21 February 2026 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Ali Khamenei) এবং তাঁর উত্তরসুরী পুত্র মোজতবা খামেনেইকে খতম করার সামরিক বিকল্প রাখা হয়েছিল। একটি সংবাদ মাধ্যম এই খবর ফাঁস করে দিয়েছে। একটি পরিকল্পিত হামলায় “আয়াতোল্লা, তাঁর পুত্র এবং মোল্লাদের খতম করে দেওয়া”র কথা উল্লেখ ছিল বলে এক শীর্ষ উপদেষ্টা জানিয়েছেন। মোজতবা খামেনেইকে তাঁর পিতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হয়। তবে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই দাবি ওই উপদেষ্টার। “প্রেসিডেন্ট এখনও হামলার সিদ্ধান্ত নেননি। আমরা হামলা করিনি—সেটাই প্রমাণ। তিনি হয়তো কখনও করবেন না। আবার হঠাৎ সিদ্ধান্তও নিতে পারেন,”—বলেন তিনি। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ট্রাম্পের সামনে একাধিক সামরিক বিকল্প তুলে ধরেছে। “প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য তাদের প্রস্তুতি আছে,” বলেন এক উপদেষ্টা। আরেক সূত্রের দাবি, খামেনেই ও তাঁর পুত্রকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্পকে জানানো হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। “মিডিয়া যত খুশি জল্পনা করতে পারে। প্রেসিডেন্ট কী করবেন বা করবেন না—তা একমাত্র তিনিই জানেন,”—বলেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা হলে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক ভয়াবহভাবে উত্তপ্ত হবে এবং আরব দুনিয়া বা উপসাগরীয় এলাকায় স্থিতিশীলতায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতিমধ্যেই ট্রাম্প ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, অর্থবহ পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে “খারাপ কিছু ঘটবে।” সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনা চললেও উত্তেজনা কমার লক্ষণ সীমিত। মার্কিন প্রশাসন তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলা বা বড়সড়ভাবে সীমিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুত বৃদ্ধি পরমাণু অস্ত্র সম্প্রসারণের ঝুঁকি তৈরি করছে। ইরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও অসামরিক উদ্দেশ্যে, সমৃদ্ধকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকার।
সম্ভাব্য হামলার জল্পনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আকারে বিমান বাহিনী উপসাগরীয় এলাকায় মোতায়েন করছে বলে খবর। এতে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-২২, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল বিমান এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মার্কিন নৌবাহিনীর ১৩টি জাহাজ বর্তমানে উপসাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln এবং ক্ষেপণাস্ত্র-সক্ষম ডেস্ট্রয়ার। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R Ford-ও রওনা দিয়েছে।
খবরে ইঙ্গিত, সামরিক বাহিনী এই সপ্তাহান্তেই প্রস্তুত থাকতে পারে, যদিও ট্রাম্প এখনও কোনও হামলার অনুমোদন দেননি। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ সব বাহিনী মোতায়েন সম্পূর্ণ হবে। সামরিক প্রস্তুতি বাড়ছে, আলোচনায় অগ্রগতি সীমিত। এই টানাপড়েন এখন এক সঙ্কটজনক মোড়ে। ওয়াশিংটন ও তেহরান পিছু হটবে, নাকি খোলাখুলি সংঘর্ষের দিকে এগোবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।