ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন সামরিক সাফল্যের দাবি, অন্যদিকে তেমনই কূটনৈতিক দরজা প্রায় বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত। “আলোচনার সময় পেরিয়ে গেছে”, এই মন্তব্য বর্তমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

শেষ আপডেট: 3 March 2026 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সামরিক কাঠামো কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর কথায়, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং শীর্ষ নেতৃত্ব “সবই শেষ” (Iran air defence destroyed claim)। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন আর আলোচনার সময় নেই (Trump says too late for talks with Iran)।
একটি মতামত নিবন্ধকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প লেখেন, “ওদের (ইরান) এয়ার ডিফেন্স, এয়ার ফোর্স, নেভি এবং নেতৃত্ব - সব শেষ। ওরা এখন কথা বলতে চায়। আমি জানিয়ে দিয়েছি, ‘এখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে!’”
তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে “অসীম মধ্য ও উচ্চস্তরের অস্ত্রভাণ্ডার, ভয়ংকর শক্তিশালী অস্ত্র।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ
ট্রাম্প সরাসরি সমালোচনা করেন The Wall Street Journal–এ প্রকাশিত একটি মতামত কলামের। তিনি সেই প্রতিবেদনের কভারেজকে “ভুল এবং লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেন।
ওই কলামটি লিখেছিলেন মার্ক থিসেন, যিনি একসময় হোয়াইট হাউসের ভাষণলেখক ছিলেন এবং বর্তমানে রাজনৈতিক ভাষ্যকার। সেখানে লেখা হয়েছিল, “রোনাল্ড রেগানের মতোই প্রেসিডেন্ট এমন এক উপায় খুঁজে পেয়েছেন, যাতে মাটিতে সেনা নামানো ছাড়াই বিশ্ব পরিস্থিতি বদলে দেওয়া যায়।”
ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই তুলনা বা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।
সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পরিকল্পনা শুরুতে “চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের” জন্য প্রস্তাবিত ছিল। তবে প্রয়োজনে তা আরও দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর সক্ষমতা মার্কিন সেনাবাহিনীর রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার কারণ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, তেহরান ওয়াশিংটন এবং তার স্বার্থের বিরুদ্ধে “গুরুতর হুমকি” তৈরি করেছিল। ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
উত্তপ্ত ভূরাজনীতি, কঠোর বার্তা
ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন সামরিক সাফল্যের দাবি, অন্যদিকে তেমনই কূটনৈতিক দরজা প্রায় বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত। “আলোচনার সময় পেরিয়ে গেছে”, এই মন্তব্য বর্তমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
আরব দুনিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা এখন নজরে আন্তর্জাতিক মহলের।