মোদীকে ‘ভাল মানুষ’ বলে প্রশংসা করলেও ভারতীয় পণ্যের উপর দ্রুত শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল কেনা ও বাণিজ্য নীতি নিয়ে দিল্লির উপর চাপ বাড়াল হোয়াইট হাউসের অডিও ক্লিপ।

ট্রাম্প-মোদী
শেষ আপডেট: 5 January 2026 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউসের (White House) প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপ ঘিরে ফের ভারত–আমেরিকা সম্পর্কে চাপানউতর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দিল্লির (New Delhi) জ্বালানি ও বাণিজ্য নীতি যদি ওয়াশিংটনের (Washington) প্রত্যাশার সঙ্গে না মেলে, তাহলে খুব দ্রুত ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক (Tariff) বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্যে সরাসরি উঠে এসেছে রাশিয়া (Russia) থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থান এবং সেই সিদ্ধান্তে তাঁর ব্যক্তিগত অসন্তোষের প্রসঙ্গ।
অডিও ক্লিপে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁকে খুশি রাখতেই নাকি ভারত নিজের অবস্থানে বদল এনেছে। বলেন, ‘ওরা আমাকে খুশি করতে চেয়েছিল, মোটামুটি সেটাই।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সম্পর্কে প্রশংসার সুর শোনা গেলেও সেখানেও ছিল স্পষ্ট বার্তা। ট্রাম্প বলেন, ‘মোদী খুব ভাল মানুষ। ও জানত আমি খুশি নই। আর আমাকে খুশি রাখা ওদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ এরপরই বাণিজ্য নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি, “ওরা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করে। আমরা খুব দ্রুত ওদের উপর শুল্ক বাড়াতে পারি, আর সেটা ওদের জন্য খুব খারাপ হবে।”
ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি (Russian Oil Import) চালু রেখেও আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine War) শুরুর পর থেকে রাশিয়ার উপর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার (Sanctions) আবহে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে ওয়াশিংটন। সাম্প্রতিক সময়ে এই ইস্যুতে ভারত কীভাবে তার তেল আমদানির তথ্য প্রকাশ করছে, তা নিয়েও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে।
অডিওতে শুধু ভারত নয়, বিশ্ব অর্থনীতির (Global Economy) প্রসঙ্গেও তীব্র মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, “রাশিয়ার অর্থনীতি খারাপ। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ হল ভেনেজুয়েলার (Venezuela) অর্থনীতি। আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ অর্থনীতি বোধহয় ওটাই।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিকে এক সূত্রে বেঁধেই ট্রাম্প তাঁর চাপের কৌশল সাজাচ্ছেন।
কূটনীতিকদের মতে, এই অডিও ক্লিপ ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা (India-US Trade Talks), জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে (Geopolitical Alignment) নতুন করে চাপ বাড়াল। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও কৌশলগত সম্পর্ক, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা- এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন দিল্লির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।