ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কড়া হাতে দেশ শাসন করেছেন।

স্যাটেলাইট চিত্র
শেষ আপডেট: 5 January 2026 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধকারে ডুবে যাওয়া এক শহর। হঠাৎ সব আলো নিভে গেলে পুরো কারাকাস থমকে যায়। ঠিক সেই নিস্তব্ধ মুহূর্তেই শুরু হয় অভিযান- যেখানে গভীর রাতের ছায়া ভেদ করে মার্কিন বাহিনী ঢুকে পড়ে ভেনেজুয়েলার হৃদয়ে (US raid Venezuela), শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনায় (US military operation)। আর সেই অভিযানের 'টার্গেট' প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের মতে, ফুয়ের্তে তিউনা ঘাঁটিতে কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণ ঘটে (Caracas explosion)। পুরো অভিযান শেষ হতে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট (US Venezuela tensions)। এতে ১৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং হেলিকপ্টারযোগে কমান্ডোরা ঘাঁটিতে প্রবেশ করে। মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছে—মাসের পর মাস ধরে মাদুরোর দৈনন্দিন অভ্যাস, চলাফেরা এমনকি তিনি কী খান, তা নিয়েও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
কীভাবে বিশেষ অভিযান চালানো হল?
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ১৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান আকাশে নজর রাখে এবং কয়েক দলে বিভক্ত কমান্ডোরা হেলিকপ্টারে করে ফুয়ের্তে তিউনায় ঢুকে পড়ে। সাতটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কারাকাস। মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে।
আমেরিকার অভিযোগ, মাদুরো দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। এই অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও চলছে।
ট্রাম্প জানান, অভিযানের সময় কারাকাসের অধিকাংশ আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল (Caracas explosion), যা মার্কিন বাহিনীর বিশেষ দক্ষতায় সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, “পুরো অভিযানটি এমনভাবে সংগঠিত হয়েছিল যে, অন্ধকারের মধ্যেও আমাদের বাহিনী সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছেছে।”
মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেস গ্রেফতারির সময় পাল্টা কোনও প্রতিরোধ করেননি। মার্কিন বাহিনীর কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন তবে এই অভিযানে প্রাণহানি হয়নি।
ঘটনার পর স্যাটেলাইট ছবিতে ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে (satellite images Venezuela strike)। যেখানে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে চলা 'ধ্বংসলীলা' স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কড়া হাতে দেশ শাসন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী জালিয়াতি, বিরোধীদের দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অনেক দিন ধরেই রয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার এই অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চিন, রাশিয়া ও ইরান। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চিন কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছে, 'মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে'।
এদিকে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাঁর মতে দেশ চালানোর মতো জনসমর্থন রাখেন না।