২০১৮ সাল থেকে কানাডা ও আমেরিকা সিলিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অভিযোগ, মাদুরো সরকারের তথাকথিত ‘নার্কো-নেটওয়ার্ক’-এ সিলিয়াও সক্রিয় সদস্য।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 January 2026 21:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পাশাপাশি গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং দেশের ‘ফার্স্ট লেডি’ সিলিয়া ফ্লোরেসও (Venezuela First Lady arrested)। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি, ঘুষ নেওয়া, সরকারি কর্তাদের প্রভাবিত করা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল (Cilia Flores allegations)। এবার নিউ ইয়র্কে সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন তিনি।
দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, মাদুরো সরকার মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছে (Maduro wife drug case)। সেই অভিযোগের তালিকায় সিলিয়ার নামও বহুবার উঠে এসেছে (Cilia Flores corruption)। বিশেষত ২০১৫ সালে তাঁর দুই ভাগ্নের একটি অডিও রেকর্ডিং সামনে আসার পর সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। সেই রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, মাদুরোর ব্যক্তিগত হ্যাঙ্গার ব্যবহার করে কীভাবে কয়েকশো কেজি কোকেন পাচারের পরিকল্পনা করছিলেন দুই যুবক।
ওই বছরই আমেরিকার ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DEA) তাঁদের হাইতি থেকে গ্রেফতার করেছিল (Venezuela drug trafficking scandal) এবং পরে নিউইয়র্কে বিচার শেষে ২০১৭ সালে ১৮ বছরের কারাদণ্ড হয় দু’জনের। যদিও তার পাঁচ বছর পর তাঁরা বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পান।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন (Trump Govt) দাবি করে, মাদক পাচারকারীদের পথ আরও সহজ করতে সিলিয়া নাকি বহুবার নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন। অভিযোগ, দেশের মাদকবিরোধী দফতরের কর্তাদের সিদ্ধান্ত বদল করাতে তিনি কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিতেন। ২০০৭ সালে ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত মাদক পাচারকারী এবং সে সময়ের জাতীয় অ্যান্টি-ড্রাগ অফিসের ডিরেক্টরের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সিলিয়া নাকি বিশাল অঙ্কের ঘুষ নিয়েছিলেন। সেই ডিরেক্টর প্রতিটি কোকেন-ভর্তি বিমানের জন্য পাচারকারীদের কাছ থেকে মাসে ১ লক্ষ ডলার পেতেন এবং সেই টাকার একটি অংশ যেত সিলিয়ার হাতেও।
২০১৮ সাল থেকে কানাডা (Canada) ও আমেরিকা (America) সিলিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অভিযোগ, মাদুরো সরকারের তথাকথিত ‘নার্কো-নেটওয়ার্ক’-এ সিলিয়াও সক্রিয় সদস্য। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলেই দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের।
সেই কারণেই মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযানের রাতে তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়। শুধু দম্পতি নয়, তাঁদের ছেলে এবং আরও তিন জনের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।