মার্কিন বাহিনীর অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদের দিকে নজর রেখে যুক্তরাষ্ট্র ‘দখলদারিত্বের চেষ্টা’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 January 2026 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বিমান হামলার পর ভয়, বিশৃঙ্খলা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস (Caracas US airstrikes)। শনিবার মার্কিন বিমানবাহিনী দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বোমাবর্ষণ করে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক (Nicolas Maduro captured) করে নিয়ে যাওয়া হয় নিউইয়র্কে। এই ঘটনার পরই রাজধানীর একটা বড় অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং প্রশাসনিক কাজ কার্যত অচল হয়ে যায়।
কারাকাসে থাকা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হামলার কারণে শহরে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে (Venezuela crisis)। রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দর, শহরের বাইরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বৃহত্তম এয়ারবেস এবং সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা- সব জায়গাই এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ, গণপরিবহনও থমকে গেছে। মানুষ ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। “বড় সুপারমার্কেট প্রায় সবই বন্ধ। শুধু ছোট মুদির দোকানগুলি খোলা, সেখানেও লম্বা লাইন- প্রতি ব্লকে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ দাঁড়িয়ে,” বলেন ওই ভারতীয় যুবক। সবচেয়ে ভিড় দেখা গেছে রুটির দোকানগুলোয়। ওষুধের দোকানগুলিতে ক্যানজাত খাবার বিক্রি হচ্ছে, ফলে সেখানেও চাপ বেড়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় (Venezuela power outage) ফোন চার্জ করতেও বিপাকে পড়ছেন বাসিন্দারা। রাস্তার একটি ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ থাকায় বিক্রেতাদের অধিকাংশই সেখান থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ টেনে চার্জিং পয়েন্ট বানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশও নিশ্চিত কোনও তথ্য দিতে পারছে না। কয়েকজন ভারতীয় জানান, "পুলিশ এসে বলল সাবধানে থাকতে। বিদ্যুৎ কবে ফিরবে জিজ্ঞেস করলে বলল, ফুয়ের্তে তিউনাতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে, কবে ঠিক হবে কেউ জানে না।”
হামলার পরও কারাকাসে বড় ধরনের কোনও বিক্ষোভ নেই (US Venezuela conflict)। তাঁদের মতে, “মানুষ ঘর থেকে বেরোতেই ভয় পাচ্ছে। অতীতে বিক্ষোভে বহু মানুষ মারা গেছে, শিশুদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই এখন কেউ আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না।”
এদিকে, সেখানে থাকা অল্প সংখ্যক ভারতীয়দের জন্য ভারতীয় দূতাবাস হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে নিয়মিত নির্দেশ দিচ্ছে।
মার্কিন বাহিনীর অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদের দিকে নজর রেখে যুক্তরাষ্ট্র ‘দখলদারিত্বের চেষ্টা’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট (Interim President of Venezuela) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন দেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodríguez)। আপাতত তিনিই দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব (Government Administration) সামলাবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব (Future Leadership) নিয়ে এখন গোটা বিশ্বের নজর ভেনেজুয়েলার দিকেই (Global Attention on Venezuela)।