কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে ‘ওয়াচ ইওর অ্যা**’ বলে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 4 January 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ভেনেজুয়েলা (Venezuela) ঘিরে উত্তেজনার আবহে এবার কড়া বার্তা পেল কলম্বিয়া (Colombia)-র প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো (Gustavo Petro)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রকাশ্যে পেত্রোকে সতর্ক করে বলেন, তাঁকে “সাবধান থাকুন” (watch you a**)। এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro)-কে আটক করে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজ়লভ’ শুরু হওয়ার প্রায় একদিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ওরা কোকেন তৈরি করছে এবং সেটা আমেরিকায় পাঠানো হচ্ছে। তাই ওকে নিজের দিকে নজর রাখতেই হবে।”
মাদুরোর নাম না করলেও মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের এই সামরিক হস্তক্ষেপ লাতিন আমেরিকা (Latin America)-র সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত এবং এর ফল হবে ভয়াবহ মানবিক সংকট।
লাতিন আমেরিকা নিয়ে বৃহত্তর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে (Western Hemisphere) মার্কিন আধিপত্য (American dominance) নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন উঠতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “আমরা চাই ভালো প্রতিবেশী, স্থিতিশীলতা এবং শক্তি। ভেনেজুয়েলায় বিপুল শক্তিসম্পদ রয়েছে। সেটা আমাদের রক্ষা করতেই হবে। আমাদের নিজেদের জন্য সেটা দরকার।”
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodriguez)-এর উপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশকে আবার ‘গ্রেট’ করার জন্য যা প্রয়োজন, তিনি তা করবেন। একইসঙ্গে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)-কে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, দেশের ভিতরে মাচাদোর যথেষ্ট সমর্থন বা সম্মান নেই।
ভেনেজুয়েলা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন তেল সংস্থাগুলি (US oil companies) সে দেশে পাঠানো হবে। ভাঙাচোরা তেল পরিকাঠামো (oil infrastructure) ঠিক করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার (billions of dollars) খরচ করা হবে এবং সেই অর্থে দেশকে লাভের পথে ফেরানো হবে। তবে তিনি একথাও স্পষ্ট করেন যে, ভেনেজুয়েলার উপর সমস্ত তেল নিষেধাজ্ঞা (oil embargo) বহাল থাকবে। একইসঙ্গে মার্কিন নৌবহর (American armada) প্রস্তুত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের (United States) সব ধরনের সামরিক বিকল্প (military options) খোলা থাকবে, যতক্ষণ না মার্কিন দাবি পূরণ হচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio) ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবা (Cuba) ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে। তাঁর কথায়, “আমি যদি হাভানা (Havana)-য় থাকতাম এবং সরকারের অংশ হতাম, তাহলে অন্তত একটু হলেও চিন্তায় থাকতাম।”
লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাসের কথাও উঠে এসেছে এই প্রেক্ষাপটে। ১৯৬১ সালের ব্যর্থ বে অব পিগস (Bay of Pigs) অভিযান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপের নজির রয়েছে।
মেক্সিকো (Mexico) নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম (Claudia Sheinbaum) ভাল মানুষ হলেও দেশ চালাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, মেক্সিকো আসলে মাদক কার্টেলদের (drug cartels) নিয়ন্ত্রণে। ট্রাম্প জানান, তিনি একাধিকবার শেইনবাউমকে জিজ্ঞেস করেছেন, কার্টেলদের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনা পাঠানো হবে কি না, কিন্তু প্রতিবারই তিনি না বলেছেন।
এই আবহে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে (Caribbean) মাদক পাচার রুখতে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, কলম্বিয়ায় মাদক উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। যা পেত্রো ‘আক্রমণের হুমকি’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছিলেন।
সবশেষে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস (Cilia Flores)-কে কারাকাস (Caracas) থেকে সরিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা “চালাবে”। তাঁর বক্তব্য, “যতদিন না নিরাপদ, সঠিক ও সুসংহত ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে, ততদিন আমরা দেশটি চালাব।” প্রয়োজনে আরও বড় আকারের দ্বিতীয় হামলার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত—এমন বার্তাও দেন তিনি।