গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলা (US Israel strikes on Iran) থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। প্রথম দফার হামলায় সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত (Khamenei Death) হওয়ার খবর সামনে আনে ইরান।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 16 March 2026 07:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (Middle East Tension) বন্ধ অচল হয়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। যার প্রভাব পড়েছে সমগ্র বিশ্বে। তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সঙ্কট। এই অবস্থায় হরমুজ হয়ে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত করতে বহু দেশকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে এগোচ্ছে আমেরিকা। আগামী সপ্তাহেই এনিয়ে বড় ঘোষণা করতে পারেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলা (US Israel strikes on Iran) থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। প্রথম দফার হামলায় সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত (Khamenei Death) হওয়ার খবর সামনে আনে ইরান। এরপরই প্রত্যাঘাত করে আরবদুনিয়ার দেশগুলিতে। দু'সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংঘাত অব্যাহত। প্রাণ গেছে সহস্য মানুষের। হরমুজ প্রণালীও কার্যত বন্ধ। বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়, ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আমেরিকারর ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও প্রকাশ্যে সাড়া দিতে কিছুটা এড়িয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের বিশেষভাবে আহ্বান করা দেশগুলির মধ্যে রয়েছে, চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেন।
কে কী বলল?
ব্রিটেন: প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে হরমুজ প্রণালী খোলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
চিন: সব পক্ষের দায়িত্ব জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে হবে, পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা পদক্ষেপ নেবে।
দক্ষিণ কোরিয়া: ট্রাম্পের আবেদনকে 'নোট' করেছে, তবে সিদ্ধান্ত নেবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।
জাপান: প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শিগগিরই ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন, সেই বৈঠকে সরাসরি অনুরোধের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফ্রান্স: আন্তর্জাতিক জোট গড়তে আলোচনা চলছে, তবে যুদ্ধ কমলে তবেই অভিযান শুরু হবে।
জার্মানি: এই সংঘাতে সক্রিয়ভাবে জড়াবে না।
মার্কিন শক্তিসচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, চিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে, এবং তিনি আশা করেন চিন এই কঠিন সময় গঠনমূলক অংশীদার হবে।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, “অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় প্রভাবিত হচ্ছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালী খোলা ও নিরাপদ থাকে।”
ট্রাম্পের বার্তায় স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রণালী খোলা রাখা এবং তেলের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
তবে তিনি সতর্কও করে দিয়েছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে ইরানের তেল অবকাঠামোই পরবর্তী টার্গেট হতে পারে। বিশেষ করে, ইতিমধ্যেই খার্গ দ্বীপের প্রায় ৮০টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে, যা ইরানের তেল রফতানির প্রধান টার্মিনাল।