মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বড় ধাক্কা। আদালতের মতে, প্রেসিডেন্টের সীমাহীন ক্ষমতা নেই। এখন সবার চোখ সুপ্রিম কোর্টের দিকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 30 August 2025 10:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বাণিজ্যনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিল একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার আদালত জানায়, ট্রাম্প জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশের উপরে শুল্ক বা ট্যারিফ (Tariff) আরোপ করেছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও আদালত আপাতত এই ট্যারিফগুলি বহাল রেখেছে, যাতে হোয়াইট হাউসের হাতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থাকে।
কী বলল আদালত?
ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অফ আপিল জানায়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (IEEPA) অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের সীমাহীন ক্ষমতা নেই। তাই এপ্রিল মাসে ঘোষিত তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফ আইন বহির্ভূত। আদালত লিখেছে, “এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে প্রেসিডেন্টকে সীমাহীনভাবে ট্যারিফ আরোপের ক্ষমতা দিতে চেয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস।”
এর ফলে ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত “রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ” এবং ১০ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড ট্যারিফ আইনি জটিলতায় পড়ে গেল। এই শুল্কের আওতায় পড়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে মেক্সিকো, কানাডা ও চিন।
আদালতের এই রায়কে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির জন্য বড়সড় আঘাত হিসেবে দেখছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন, মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগও শঙ্কিত—কারণ আদালত যদি শেষ পর্যন্ত ট্যারিফ বাতিল করে, তবে সরকারের ১৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রাজস্ব ফেরত দিতে হতে পারে। বিচার বিভাগ আগেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এভাবে রাজস্ব হারালে আমেরিকার অর্থনীতিতে “আর্থিক বিপর্যয়” নেমে আসবে।
ট্রাম্প অবশ্য পিছু হটতে রাজি নন। তিনি ঘোষণা করেছেন, এই লড়াই তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। তাঁর ভাষায়, “এই রায় যদি বহাল থাকে, তাহলে আমেরিকা ধ্বংস হয়ে যাবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্টের হাতে বিকল্প আইনগত পথ এখনও খোলা আছে। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্ট অনুযায়ী সীমিত সময়ের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো সম্ভব। আবার ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপানশন অ্যাক্ট-এর ধারা ২৩২ অনুযায়ীও বিশেষ তদন্তের পর ট্যারিফ চাপানো যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের স্বাধীনতা সীমিত।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য কৌশল চাপে পড়বে। বিদেশি সরকারগুলি নতুন করে আলোচনায় কড়া অবস্থান নিতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এখন সবার চোখ সুপ্রিম কোর্টের দিকে—ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি ও মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সেই চূড়ান্ত রায়ের উপর।