সোমবার মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে তোলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছে আমেরিকা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 January 2026 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা নিয়ে জল্পনা চলছে চরমে। এমন অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি নিজেকেই এখন ভেনেজুয়েলার 'দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান' হিসেবে মনে করেন। শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Venezuela's President Nicolas Maduro) মার্কিন বাহিনী গ্রেফতার করার পর দেশটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই অস্থিরতার মধ্যেই ট্রাম্পের দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, 'ভেনেজুয়েলা নিয়ে কাজ চালাচ্ছেন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা- বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স'। তবে শেষ সিদ্ধান্ত কার হাতে, এই প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমার।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও স্পষ্ট করে দেন যে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় কোনও নির্বাচন হবে না (Venezuela Election)। তাঁর দাবি, দেশকে আগে সঠিক পথে আনা জরুরি। ট্রাম্প বলেন, “দেশটাকে আগে ঠিক করতে হবে। এখনই ভোট সম্ভব নয়। মানুষ ভোট দিতেও পারবে না এই অবস্থায়।” তাঁর মতে, ভেনেজুয়েলাকে 'সুস্থ' হতে সময় লাগবে, আর সেই সময়কালে দেশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
ভেনেজুয়েলার (Venezuela) ভেঙে পড়া তেল পরিকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন সহায়তার কথাও জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন তেল সংস্থাগুলি বিপুল বিনিয়োগ করবে আর পরে সেই খরচ আমেরিকা ফেরত দেবে বা আয় থেকে তুলবে। এই প্রকল্প শেষ করতে ১৮ মাসেরও কম সময় লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের মাঝেই ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আমেরিকার কোনওরকম সংঘর্ষ নেই। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ করছি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। যুদ্ধ করছি সেই সব দেশের বিরুদ্ধে যারা তাদের মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের আমাদের দেশে পাঠাচ্ছে।”
এদিকে, সোমবারই মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে তোলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছে আমেরিকা। তবে আদালতে দাঁড়িয়ে ভেনেজুয়েলার বন্দি প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, 'তিনি এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট।' এদিকে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোমবারই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
ডেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন বলে ট্রাম্প দাবি করলেও তিনি অস্বীকার করেন যে মাদুরোকে সরাতে কোনও পূর্ব-সমঝোতা হয়েছিল। প্রয়োজনে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিতও দেন তিনি, যদিও তা প্রয়োজন হবে না বলেই ধারণা ট্রাম্পের।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনেরও বিরোধিতা করেন ট্রাম্প। নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করেছে, এই দাবিও অস্বীকার করেন তিনি।