পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে ইরানের সামনে ১৫ দফা প্রস্তাব দিল ট্রাম্প প্রশাসন। পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে, প্রশ্ন—এই শর্ত মানবে কি তেহরান?

যুদ্ধ থামাতে শর্ত দিলেন ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 25 March 2026 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) যুদ্ধ থামাতে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের। (Donald Trump Administration) ইরানের (Iran) সামনে পেশ করল ১৫ দফার যুদ্ধবিরতির (Ceasefire Proposal) খসড়া। দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (Associated Press) সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের (Pakistan) মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নতুন করে ওয়াশিংটন (Washington) ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে ইসলামাবাদ।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মাঝে মার্কিন সেনা মোতায়েন (US Military Deployment) আরও জোরদার হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তার সঙ্গে আরও ১,০০০ সেনা পাঠানো হচ্ছে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন (82nd Airborne Division) থেকে। পাশাপাশি দু’টি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (Marine Expeditionary Units) মোতায়েন করা হচ্ছে, যাতে প্রায় ৫,০০০ মেরিন ও কয়েক হাজার নাবিক যোগ হবে।
এই পদক্ষেপে অবাক ইজরায়েল (Israel)। তেল আভিভ (Tel Aviv) বরাবরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বজায় রাখার পক্ষেই ছিল। এই সময়ে হঠাৎ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসবে, তা তারা আশা করেনি।
সেখানকার স্থানীয় এক চ্যানেলের রিপোর্ট বলছে, এই ১৫ দফার প্রস্তাবে একাধিক কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment) বন্ধ করতে হবে, পারমাণবিক অস্ত্র (Nuclear Weapons) তৈরি না করার অঙ্গীকার করতে হবে এবং নাতাঞ্জ (Natanz), ইসফাহান (Isfahan) ও ফোর্ডো (Fordow)-র পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলতে হবে।
এছাড়া ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) হাতে তুলে দিতে হবে। সংস্থাকে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও প্রবেশাধিকার দিতে হবে ইরানজুড়ে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রক্সি কার্যকলাপ (Proxy Operations) ও মিত্র মিলিশিয়াদের (Militias) সমর্থন বন্ধ করার শর্তও রাখা হয়েছে।
স্ট্রেট অফ হরমুজ (Strait of Hormuz) আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য খোলা রাখতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি (Missile Programme) সীমিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তা শুধুমাত্র আত্মরক্ষার (Self-defence) জন্য ব্যবহার করা যাবে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি তৈরি করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ (Steve Witkoff) ও প্রেসিডেন্সিয়াল উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার (Jared Kushner)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এক মাসের যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে এই ১৫ দফা নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে ইজরায়েলের আশঙ্কা, সব শর্ত পূরণ হওয়ার আগেই ট্রাম্প প্রশাসন কোনও ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্টে’র (Framework Agreement) দিকে এগোতে পারে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে যেমন উত্তেজনা জারি, তেমনই কূটনৈতিক ময়দানেও বাড়ছে টানাপড়েন।