যুদ্ধ থামাতে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনার মঞ্চ বাঁধতে প্রস্তুত।
.jpg.webp)
ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা!
শেষ আপডেট: 25 March 2026 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের (US Iran War) মধ্যেই শান্তি প্রস্তাব ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এবার গতি পেল। মাত্র দু’দিনে তেহরানকে শায়েস্তা করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের (Donald Trump) এখন ছুঁচো গেলার মতো অবস্থা। যুদ্ধ পরিস্থিতি গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়ায় ওয়াশিংটনকে শাপ শাপান্ত করছে গোটা পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ, ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি। চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ ট্রাম্পকেও এখন যুদ্ধবিরতির (US Iran Ceasefire and Peace talk) কথা বলতেই হচ্ছে। যিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে এখন একটাই শব্দে অনুবাদ করে ফেলেছেন, তা হল—‘ডিল’।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, যুদ্ধ থামাতে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনার মঞ্চ বাঁধতে প্রস্তুত। শাহবাজের সেই পোস্ট আবার ট্রাম্প শেয়ার করেন। যা নিয়ে এখন মনে লাড্ডু ফুটছে ইসলামাবাদের। এমনই মওকার সন্ধানে ছিল পাকিস্তান।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার মতো একাধিক শর্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের যুদ্ধবিরতির কথাও বলা হয়েছে, যাতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা যায়। তবে এত কড়া শর্তে তেহরান রাজি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
খবর হল, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ইসলামাবাদেই সম্ভাব্য বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নাম শোনা যাচ্ছে, যদিও ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আলোচনায় রাজি হয়নি।
যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। ইজরায়েলের লাগাতার বিমান হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের মধ্যে শান্তির এই প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। ইরান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
তা ছাড়া তেহরানের এও সাফ কথা, শেষমেশ যদি যুদ্ধবিরতি হয় তাহলে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পরমাণু কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক প্রোগ্রামে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ চলবে না। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ঘোষিত ভাবে ইরানকে দিতে হবে।
তবে যুদ্ধের মধ্যেই আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে আশার সঞ্চার হয়েছে। পাকিস্তান যদি সত্যিই এই আলোচনার মঞ্চ হয়ে ওঠে, তাহলে তা শুধু এই সংঘাত নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।