ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণ (Israel US Strikes in Iran) শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি জোরালো হতে শুরু করে। তবে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে গত সপ্তাহ থেকে ইরান কাতারে বিশ্বের বৃহত্তম তৈলক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর।

জ্বালানি সঙ্কট
শেষ আপডেট: 25 March 2026 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার অস্থির পরিস্থিতির (Middle East Tension) জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট (Fuel Crisis) শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কোথাও পেট্রল-ডিজেলে (Petrol-Diesel) চালু হয়েছে রেশনিং ব্যবস্থা। কোন কোন দেশ বড় শহরগুলিতে গাড়ি গাড়ি চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। অনেক দেশ চালু করেছে ওয়াক ফ্রম হোম।
ভারতে এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোন সামগ্রিক বিধি নিষেধ জারি হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন পরিস্থিতি আগামী দিনে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। সেই মতো তিনি সরকারি মন্ত্রক, দফতরের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে বলেছেন
ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণ (Israel US Strikes in Iran) শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি জোরালো হতে শুরু করে। তবে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে গত সপ্তাহ থেকে ইরান কাতারে বিশ্বের বৃহত্তম তৈলক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর। তার আগে ইজরায়েল ইরানের একটি তেল ভান্ডারে বড় ধরনের হামলা চালায়। তারপরই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সংকট শুরু হয়েছে। এইসঙ্গে ইরানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যাও জ্বালানি সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা। স্বভাবতই বহু দেশ বিশেষ করে যারা আমদানির উপর নির্ভরশীল সেই সব দেশে জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার।
এশিয়া- আফ্রিকা- ইউরোপ সব অঞ্চলেই বিভিন্ন দেশের সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক দেশে অফিস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাড়তি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাময়িক বন্ধ রাখা হচ্ছে কলকারখানা। এমনকী বিদ্যুৎ সরবরাহও নিরবচ্ছিন্ন নয়। নিয়ম করে পাঁচ থেকে সাত ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বহু দেশে।
শ্রীলঙ্কায় বুধবার স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অত্যাবশ্যক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন সব অফিস-কাছারি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পুনরায় চালু করা হয়েছে জাতীয় জ্বালানি পাশ। বেসরকারি যানবাহনের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ১৫ লিটার এবং সরকারি গণপরিবহনের জন্য ২০০ লিটার ডিজেল/পেট্রলের সীমান নির্ধারিত করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
বাংলাদেশে (Bangladesh) বহু বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি পাঠক্রমের স্কুল, কোচিং সেন্টার বন্ধ। বিদ্যুৎ বাঁচাতে অন লাইন ক্লাস শুরু করেছে পড়শিদেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে জ্বালানির রেশনিং। পর্যায়ক্রমে বসতি এলাকায় ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে পোশাক শিল্পকে। লুঠপাট রুখতে বড় বড় তেলের ডিপোয় সেনা মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ সরকার। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সরকার-পরিচালিত ৫টি সার কারখানার মধ্যে ৪টি আপাতত বন্ধ।
ভূটানে জেরিক্যানে তেল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে, যাতে মজুতদারি না হয়। পড়শি ওই দেশেও বাড়ি থেকে কাজ করায় জোর দেওয়া হচ্ছে। জরুরি পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুরু হয়েছে জ্বালানির রেশনিং।
পাকিস্তানে সপ্তাহে চারটি কাজের দিন এবং সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা হয়েছে। দু’ সপ্তাহ যাবত স্কুল-কলেজ বন্ধ। ইদের ছুটি শেষেও খোলেনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারি দফতরে জ্বালানি সরবরাহ ৫০ শতাংশ ছাঁটাই করেছে পাকিস্তান সরকার। নিত্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন সব সরকারি গাড়ি চলাচলে বিস্তর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেগুলিতে তেল দেওয়া হচ্ছে সপ্তাহে মাত্র একদিন।
ফিলিপিন্সে সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে চারদিন অফিস করতে বলা হয়েছে।
বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের বলা হয়েছে বাড়ি থেকে কাজ করতে। অফিসারদের সরকারি গাড়িতে যাতায়াত বন্ধ।
ভিয়েতনামে সরকারি বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছে ওয়াক ফ্রম হোম ব্যবস্থা। দেশবাসীকে সাইকেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সে দেশের সরকার। প্রাইভেট কার যথাসম্ভব কম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
মায়ানমারে বেসরকারি যানবাহন ব্যবহারে জোড়-বিজোড় নীতি চালু করেছে সামরিক সরকার। ফলে অর্ধেক গাড়ি পথে নামছে না। এইভাবে জ্বালানি সাশ্রয় করা হচ্ছে। জ্বালানি না থাকায় বহু পেট্রল পাম্প বন্ধ। একই পরিস্থিতি বাংলাদেশেও।
কাম্বোডিয়ায় মার্চের মাঝামাঝি দেশের ৬,৩০০ পেট্রল বিপণন কেন্দ্রে এক তৃতীয়াংশ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। রাজধানীর লাওসে সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সমস্ত সরকারি বৈঠক ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে করার নির্দেশ জারি হয়েছে।
মিশরে ২৮ মার্চ থেকে কাজের দিনে মল, রেস্তোরাঁ এবং দোকান রাত ৯-টায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি অফিসের দরজা বন্ধ হচ্ছে বিকাল চারটায়। জোরালো আলোর বিজ্ঞাপনের বোর্ড আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছে স্থানীয় প্রশাসন।
কেনিয়ায় জ্বালানির রেশনিং হচ্ছে এবং রফতানি বন্ধ করা হয়েছে। জ্বালানি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে যে এসব সত্ত্বেও জ্বালানির সরবরাহ বজায় থাকবে এপ্রিল পর্যন্ত। তারপর পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় খনিজ এবং পেট্রলিয়াম সম্পদ দফতর শিল্প ক্ষেত্রে 'নিয়ন্ত্রিত বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা' চালু করেছে যাতে বিতরণ যথাযথ হয় এবং মানুষ আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা বন্ধ করেন। অনেক প্রদেশে ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ড সরকার ১৯৭৯-র 'গাড়িবিহীন দিন' নীতি ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে – যে নীতি অনুযায়ী চালকরা সপ্তাহে একদিন গাড়ি চালাবেন না। জ্বালানির মজুতের উপর নজরদারির জন্য নজরদারি চালু করেছে সরকার। এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রায় ১,১০০ উড়ান বাতিল করা হয়েছে। অসুবিধায় পড়েছেন যাত্রীরা। সে দেশে আটকে পড়েছেন বহু বিদেশি।
স্লোভাকিয়ার সরকার ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে কোটার ব্যবস্থা করেছে। একজন ক্রেতা কতটা ডিজেল কিনতে পারেন, তার সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। স্লোভেনিয়া জ্বালানির দ্বিতীয় বৃহত্তম খুচরো বিপণন সংস্থা এমওএল রেশনিং-এর ব্যবস্থা করেছে। সে দেশে সাধারণ গাড়ির জন্য সপ্তাহে ৩০ লিটার, ট্রাকের জন্য ২০০ লিটার বরাদ্দ করেছে সরকার।